রাড্ডা ক্লিনিকে হামলায় সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় অভিযোগ আসিফ মাহমুদের

রাড্ডা ক্লিনিকে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় হামলার অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তবে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায়, প্রত্যাহার করা হয়েছে শাহ আলী থানার ওসিকে। এদিকে, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া ভবনের ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই আজও চলে টিকাদান কর্মসূচি।

এদিকে  ক্লিনিক লুট ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯ জনকে। জব্দ করা হয়েছে লুটপাটের দুই ট্রাক মালামাল।

ধ্বংসস্তুপে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে টিকার সরঞ্জামসহ নানা উপকরণ। কোথাও ভাঙা কাঁচ, এলোমেলো পড়ে আছে টিকা কার্ড। ভবনের ভাঙা অংশ-পিলারে প্রবল আঘাতের ক্ষতচিহ্ন। অথচ বৃহস্পতিবারের হামলার আগ পর্যন্ত অসংখ্য মানুষের সেবা প্রাপ্তির স্থান ছিলো এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। অসুস্থ সন্তান কিংবা প্রিয়জনকে নিয়ে ছুটে এসেছেন তারা। দুর্বৃত্তদের হামলায় শুধু ভবনই ভাঙেনি, ভেঙেছে তাদের নির্ভরতার আশ্রয়স্থল।

হামলাকারীরা খুলে নিয়ে গেছে ভবনের দরজা-জানালা, এসি। লুটপাটে বাদ পড়েনি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার সরঞ্জামও। হামলায় কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতির কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। 

রাড্ডা ক্লিনিকের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, ‘এসি, ফ্রিজ, আল্ট্রাসনোগ্রাফ মেশিন, ওষুধ, ভ্যাক্সিন, টিকাদান ও ফেমিলি প্ল্যানিংয়ের সরকারি রেজিষ্ট্রারসহ আরও যেসব জিনিসপত্র ছিল– সবই ধ্বংস করে দিয়েছে।’ 

রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। এসময় দখলকারীদের টাঙানো সমমনা দোকানদার সমিতির সাইনবোর্ডটি ভেঙে ফেলেন তার সমর্থকেরা। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ভাঙচুরের অভিযোগ করেন এনসিপির নেতা।

এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘এই ঘটনার সাথে বিএনপির এমপি, সিটি কর্পোরেশেনর প্রশাসক এবং স্থানীয় পুলিশ সবার ঐক্যবদ্ধ অপরাধ এটা।’ 

অভিযোগ উঠেছে, জমি দখলে নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় এ হামলা। তবে অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘হঠাৎ করে এই জায়গা দখলের জন্য কারা গিয়েছে, কীভাবে গিয়েছে এটা আমাদের নজরে ছিল না। কিন্তু আমরা জানতে পেরেছি এখানে পুলিশের অবহেলা ছিল। আমরা একটি সংক্ষিপ্ত তদন্ত করেছি। তদন্তের পরে জানা গিয়েছে শাহ আলী থানার ওসির দায়িত্বে অবহেলা ছিল। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’  

১৯৭৬ সালে মিরপুর এক নম্বরে সরকারের কাছ থেকে ১০ কাঠা জমি লিজ নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছিলো রাড্ডা ক্লিনিক।