বাড়িতে চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি, আনন্দ আর ব্যস্ততা। মঙ্গলবার বরপক্ষের লোকজনও আসার কথা ছিল। তাই মেয়ের বিয়ের বাজার করতে ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন বাবা লোকমান হোসেন। কিন্তু সেই বাজার নিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না তার। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মাছবাহী একটি গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার ভবানীপুর জেসন গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা হয়। এ ঘটনায় ট্রাকের চালক ও সহকারীর সঙ্গে থাকা অপর এক মাছ ব্যবসায়ীও নিহত হয়েছেন।
নিহত লোকমান হোসেন গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার সোনা মিয়া হাজীর ছেলে। আর নিহত মাছ ব্যবসায়ীর নাম দিরু, তিনি নেত্রকোণা জেলার বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ ভোরে লোকমান হোসেন মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি মাছবাহী গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। পরে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অপর একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে গিয়ে ধাক্কা দেয়।
এতে মাছবাহী গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গাড়ির চালকের পাশের সিটে থাকা মাছ ব্যবসায়ী গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। গুরুতর আহত লোকমান হোসেন ও মাছ ব্যবসায়ী দিরুকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক লোকমানকে মৃত ঘোষণা করেন। এর কিছু সময় পর দিরুও মারা যান।
নিহত লোকমানের পরিবারের সদস্যরা জানায়, আগামী শুক্রবার মেয়ের বিয়েকে ঘিরে কয়েকদিন ধরে বাড়িতে চলছিল নানা প্রস্তুতি। সেই আনন্দের মধ্যেই বাবাকে হারিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে বাবা মেয়ের বিয়ের বাজার নিয়ে ঘরে ফেরার কথা ছিল, শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরতে হলো নিথর দেহ হয়ে।
রাজেন্দ্রপুর-চৌরাস্তা মডার্ণ ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার মুহাম্মদ আবু সায়েম মাসুম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ির চালকের পাশের সিটে থাকা এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর গাড়িচালক পালিয়ে যান। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।