বাসের ধাক্কায় মাদরাসা শিক্ষার্থী আহত, সড়কে ৩ ঘণ্টা অবরোধ

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাইক্রোবাসের চাপায় আব্দুল্লাহ আল জাবের (১৭) নামে তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার এক ছাত্র আহত হওয়ার ঘটনায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এতে ওই মহাসড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। পরে রোববারের মধ্যে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ শুরুর আশ্বাসে তিন ঘণ্টা পর মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। 

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের উভয়পাশে অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। আহত আব্দুল্লাহ আল জাবের ওই মাদরাসার আলীম প্রথম বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, মাদরাসা ছুটির পর দুপুর পৌনে ১টার দিকে আব্দুল্লাহ আল জাবের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এসময় ঢাকা থেকে গাজীপুরগামী দ্রুতগতির একটি মাইক্রোবাস আব্দুল্লাহ আল জাবিরকে চাপা দেয়। এতে তিনি মহাসড়কে পরে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। 

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, এর আগে মাদরাসার এক শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। পরে গাজীপুর-২ আসনের এমপিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এক সপ্তাহের মধ্যে মহাসড়কের ওপর একটি ফ্লাইওভার ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আশ্বাসের পর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও ফ্লাইওভার ব্রিজের কাজ হাতে নেওয়া হয়নি। এতে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটছে।

এদিকে, ব্যস্ততম মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। 

বলাকা পরিবহনের বাস যাত্রী মিল্টন খন্দকার বলেন, সড়ক অবরোধের কারণে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে কলেজ গেইট পর্যন্ত গাড়ির অনেক চাপ রয়েছে।  এক ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার পর বিকল্প হিসেবে ভেতরে রাস্তায় যাচ্ছি। এ যানজট কখন কমবে জানি না।

এ ব্যাপারে গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মহাসড়ক থেকে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সরানোর চেষ্টা করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যরা। পরে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণে প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তিন ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক।’