নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলায় ‘উৎসব পরিবহন’ নামে একটি বাসের ধাক্কায় আতিক (৩০) নামে এক অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মো. মাসুদ (৩৮) নামে আরেক অটোরিকশাচালক গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার কালীবাজারের চাড়ারগোপ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যার দিকে আতিককে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
নিহত আতিকের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার উত্তর স্কুল গ্রামে। তার বাবার নাম সাদেকুল ইসলাম। তার চার ভাই ও তিন বোন রয়েছেন। পাঁচ বছর বয়সী এক সন্তান রয়েছে তার। তার স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
আহত মাসুদ নাটোরের গুরুদাসপুর থানার বিয়াঘাট গ্রামের মো. আউয়ালের ছেলে। তারা দুজনই নারায়ণগঞ্জে থাকতেন এবং অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
আতিকের ভাই মো. লেবু বলেন, দুপুরে কালীবাজারের চাড়ারগোপ এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে নিজেদের অটোরিকশায় বসে চা খাচ্ছিলেন আতিক ও মাসুদ। এ সময় পেছন থেকে আসা ‘উৎসব পরিবহন’-এর একটি বাস তাদের ধাক্কা দিলে দুজনই গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করেন। পরে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসক তার ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে আতিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় অপর অটোরিকশাচালক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আতিকের মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।
আহতদের স্বজনদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে আটক করা হয়েছে।