গাজীপুরে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনে সহিংসতা ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া বিভিন্ন কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে বেশির ভাগ কারখানা। তবে গতকাল আন্দোলনের সময় আহত এক শ্রমিক মারা গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে গাজীপুরের বেশির ভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। এতে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকেরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানা এলাকায় ও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২ এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, গাজীপুরের বেশির ভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠান খোলে দিয়েছে মালিক পক্ষ। সকাল থেকে শ্রমিকেরা কাজে ফিরেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, গতকাল ভোগড়া বাইপাস এলাকায় টোল প্লাজা ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করার চেষ্টা কালে ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ১২ শত অজ্ঞাত আসামি করে বাসন থানায় মামলা হয়েছে। আটকের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া গাজীপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে হামলায় গুরুতর আহত তৌফিক শেখ (২১) নামের এক পোশাক শ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় ঘটনাস্থলের সিসিটিভি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।
পোশাক শ্রমিক মৃত্যু নিয়ে স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছর ধরে তৌফিক বাংলাবাজার এলাকায় থেকে কারখানায় চাকরি করছিলেন। সোমবার নোমান গ্রুপের টেরিটোরি গার্মেন্টসের সামনে শ্রমিক আন্দোলন চলাকালে হামলার ঘটনা মুঠোফোনে ধারণের চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে। গুরুতর আহত তৌফিককে সহকর্মী শ্রমিকেরা উদ্ধার করে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত তৌফিক গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় থাকতেন এবং স্থানীয় লায়লা গার্মেন্টসে কাজ করতেন।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, গাজীপুরে চলমান শ্রমিক আন্দোলনে সহিংসতা রোধে পুলিশ, আনসার, এসআরবি সদস্যদের পাশাপাশি ১৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।