রাজধানীর মিরপুরে কয়েকজন যুবকের কিল-ঘুষি-লাথিতে হাফিজুল ইসলাম (২৭) নামে এক ফাস্টফুড ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার পর আসাদুজ্জামান চয়ন (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মিরপুরের-১০ নম্বরে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ঘোষণা করেন।
হাফিজুল নরসিংদীর শিবপুর থানার তেলিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুল হান্নান মিয়ার ছেলে। মিরপুর পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন তিনি।
নিহতের ভাই সজীব মিয়া বলেন, ‘আমার বড় ভাই হাফিজুল ইসলাম মিরপুর-১০ এসএ পরিবহন রোডে চিকেন ফ্রাইয়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে আসাদুজ্জামান চয়ন (২৭), মো. তারেকসহ (২৮) অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনে আমার ভাইয়ের দোকান থেকে চিকেন ফ্রাই কিনে। এ সময় চয়ন আমার ভাইকে চিকেন ফ্রাইয়ের জন্য একটি এক শ টাকার ছেড়া নোট দেয়। আমার ভাই ওই টাকা পরিবর্তন করে দিতে বললে সেটি না করে বড় ভাইয়ের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়ায়।’
‘একপর্যায়ে আমার ভাইকে এলোপাতাড়ি চড় থাপ্পড়, কিল-ঘুষিসহ লাথি মারে। এতে আমার ভাই জ্ঞান হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে মিরপুর আজমল হাসপাতাল নিলে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আমার ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন। সংবাদ পেয়ে আমরা রাত ১০টার দিকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে আমার ভাইয়ের মৃতদেহ দেখতে পাই।’
মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সংবাদ পেয়ে গত রাতের দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি সোহরাওয়ার্দী মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এসআই আরও জানান, এ বিষয়ে নিহত ব্যক্তির ভাই সজীব মিয়া একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান চয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।