খুলনায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যায় স্বামীর ফাঁসি

খুলনায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার মামলায় স্বামী মো. কায়েদে আযমকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৩ এর বিচারক আব্দুস সালাম খান এই আদেশ দেন। 

একই সঙ্গে এই মামলার অপর ছয় আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। খালাস পাওয়া আসামিরা হলো— মো. কায়েদী আজমের বাবা আবু তালেব গাজী, ভাই ইসরাফিল, ভাবি মাফিয়া খাতুন, বন্ধু মো. মনি, রজব আলী ও জহুরুল। 
 
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে কয়রা উপজেলার ১নং ওয়ার্ডের আবু তালেব গাজীর ছেলে মো. কায়েদে আজমের সঙ্গে একই এলাকার ফজর ঢালীর মেয়ে নাজমা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে নাজমা খাতুনের এর ওপর নির্যাতন চালাত কায়েদী আজম ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কয়েকবার সালিস হয়। সেখানে নিজের ভুল শিকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকার করে কায়েদী আজম। কিন্তু প্রতিবারই সে তার অঙ্গীকারনামা ভঙ্গ করে নাজমা খাতুনের ওপর নির্যাতন চালাত। এ সময় তাদের এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানও জন্ম নেয়। 

২০০৬ সালে কায়েদে আজম পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত হন বলে অভিযোগ ওঠে। এই নিয়ে নাজমা খাতুনের সঙ্গে তার তীব্র কলহ লেগে থাকত। ওই  বছরের ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কায়েদে আযম, তার তিন বন্ধু, ভাই, ভাবি মিলে নাজমা খাতুনের ওপর নির্যাতন চালিয়ে তাকে মেরে ফেলে। পরে ঘরের বাঁশের গলায় ফাঁস দিয়ে নাজমা খাতুনের মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে।  

এ ঘটনার পর ২০০৬ সালের ২০ নভেম্বর নাজমা খাতুনের মা মোছা. রাজিয়া খাতুন আদালতে কায়েদী আযমসহ সাত আসামির নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ১৭ স্বাক্ষীর মধ্য ৯ সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। পরে বিচার শেষে বুধবার আদালত কায়েদী আজমকে ফাঁসি ও অন্য ৬ আসামিকে খালাস দেন।