জলাবদ্ধতায় খুলনা ও মাগুরার কয়েক হাজার পরিবার

অকেজো জলকপাটের কারণে খুলনার ডুমুরিয়ায় ২ মাস ধরে জলাবদ্ধতার শিকার কয়েক হাজার পরিবার। ভেলা ও নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে। এদিকে মাগুরা পৌরসভার কয়েকটি এলাকায় ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতায় রয়েছে শহরবাসী।

খুলনার ডুমুরিয়ার ৭৫টি জলকপাটের ২৩টি একদম অকেজো। বাকি ৫২টির ২০টিতে পলি জমে পানি চলাচল বন্ধ। বর্ষার পানি বেরুতে পারছে না।

এতে ২ মাস ধরে জলাবদ্ধ ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের বাদুরগাঁছা গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার। তাদের চলাচলের মাধ্যম এখন ভেলা ও নৌকা। ঝুঁকি নিয়ে তাই বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে শিশুদের। 

এক স্কুলশিক্ষার্থী বলে, ‘প্রতিদিন আমাদের নৌকা করে স্কুলে যেতে হয়। এতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়।’ স্থানীয় এক নারী বলেন, ‘ঘরে আমাগো কোমর পরিমাণ পানি। তিন মাস ধইরা আমরা খুব অসহায় হয়ে আছি।’

মাগুরা পৌরসভারও অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনমাগুরা পৌরসভারও অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, এসব এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ধানের খেত এক দুই হাত পানির নিচে। ও ধান আর হওয়ার মতো কোনো সম্ভাবনা নাই।

এক শিক্ষার্থী বলেন, পৌর এলাকায় বসবাস করি। কিন্তু এই এলাকায় কোনো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নাই। স্কুল-কলেজে যেতে দেরি হয়। নানা ধরনের রোগে ভুগতে হয়।

জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মাগুরা পৌরসভা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে- এমন দাবি কর্মকর্তাদের।

খুলনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাজকিয়া বলেন, ‘দুই মাস পরে ট্রেন ভরাট হয়ে গেছে। আমাদের জনবল দিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে থাকি। জনগণ যদি একটু সচেতন হয়, তাহলে এই সমস্যা থেকে আমরা পরিত্রাণ পাব।’

মাগুরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আহ্সান বারী বলেন, স্বল্প দূরত্বে পানি চলে গেলে যাতে পানি দ্রুত নেমে যায়, আমরা এমন এক জায়গা খুঁজি কেটে পানি নিষ্কাশন করার জন্য।

এছাড়া, মাগুরায় ১০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ করতে মাস্টার প্ল্যান চলছে বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।