প্রায় পাঁচশ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরায় নদী ও খাল খনন হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা আর শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন না কৃষক ও ঘের মালিকেরা। নদী ও খাল খননে সঠিক পরিকল্পনার অভাব এবং ঠিকাদারদের অনিয়ম-দুর্নীতিকে দুষছেন এলাকার মানুষ।
বেতনা ও মরিচ্চাপ নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় এক দশকের বেশি সময় ধরে জলাবদ্ধতার কবলে সাতক্ষীরার পাঁচ উপজেলার মানুষ। সংকট নিরসনে নদী দুটি খননের পাশাপাশি ৭১টি খালও খননের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
এলাকাবাসী বলছেন, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন নামের পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি শেষ হয় চলতি বছরের জুনে। তবে ৭১টি খালের বেশিরভাগেরই সংযোগ না ঘটিয়ে অর্ধেক খনন করায় দুর্ভোগ কমেনি। ছয় মাসের মধ্যেই নদী দুটিতে পলি জমে পরিণত হয়েছে খালে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘খাল কাটতে কাটতে বন্ধ হয়ে যায়। নদী-নালা আর নেই। শত শত জমি পড়ে আছে, সেখানে ফসল ফলে না। ব্লকের একটাই ফসল হয়, আর জলাবদ্ধতার কারণে ফসল হয় না। আশাশুনি থেকে কুলিয়া পর্যন্ত মরিচ্চাপ নদী খনন করা উচিত ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। মাথার দিকে ক্লিয়ার করা হয়নি।’
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন বলছে, অপরিকল্পিতভাবে খাল-নদী খননের কারণে এই প্রকল্প কোনো কাজে আসেনি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক, ঘের মালিক ও স্থানীয়রা।
সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাধব দত্ত বলেন, ‘এরই মধ্যে খাল ও নদীগুলোতে পলি ভরাট হয়ে গেছে। এ ছাড়া নদীর অববাহিকতায় যেসব ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন, পানি না পেয়ে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আবার নদী মরে গেলে যে খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে, তার উদ্যোগও সরকারের নেই। ফলে ৪৭৮ কোটি টাকা, জলে গেল বলে যে কথা আছে, সেটাই হলো।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, উপকূলীয় এলাকার নদীতে প্রচুর পলি থাকায় খনন প্রকল্পে সুফল পাওয়া কঠিন।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, ‘জলাবদ্ধতা হয়েছে, অবৈধ ঘের মালিক, যারা নদী ও খালের সংযোগ বন্ধ করে পানি সরাতে বাঁধা দিয়েছে। বাইরে থেকে পানি যে আসবে, তার উপায় নেই। এ কারণে জলাবদ্ধতা হয়েছে। আর উপকূলীয় এলাকার নদীতে ব্যাপক পলি থাকে। খনন করার দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে নদী আবারও পলি ভরাট হয়ে যায়।’