দীর্ঘদিন পরে সাতক্ষীরা-৩ আসনের ভোটারেরা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন। তবে রাজনৈতিক ইস্যুর পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন সংকট সমাধানের যোগ্য প্রার্থীকে তাঁরা বেছে নেবেন। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও নদী ভাঙনে বিধ্বস্ত উপকূলীয় এই জনপদের বাসিন্দাদের দাবি, আশ্বাস নয়, করতে হবে উন্নয়ন।
আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার ২৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৩ আসন। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে দুবার জামায়াত ও দুবার আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়। তবে প্রতিশ্রুতি থাকলেও কোনো সরকারের আমলে পূরণ হয়নি ভোটারদের চাহিদা।
২০০৯ সালে আইলার পর থেকে প্রতিটি ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে বিধ্বস্ত উপকূলীয় এ জনপদ। টেকসই বেড়িবাঁধ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতকরণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, সুপেয় পানির ব্যবস্থাসহ স্থানীয় সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভোটারেরা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা রাস্তা-ঘাট চাই। আমাদের এদিকে রাস্তা-ঘাট নেই। আমপান, আইলা, ইয়াশ ইত্যাদি ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত আমরা। আমাদের বাড়ি-ঘর সব নদীর মধ্যে চলে গেছে। আমাদের স্থায়ী বেড়িবাঁধ চাই। এসব যিনি করতে পারবেন বলে ভরসা রাখি, আমরা তাঁকে ভোট দেব।’
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘প্রত্যন্ত এলাকার উন্নয়নের আশা দিয়ে আমাদের ভোট নেন প্রার্থীরা। কিন্তু ভোট চলে গেলে কেউ আর আসে না।’
এক স্থানীয় জানান, তাঁর অনেক জমি ছিল। সব চলে গেছে নদীতে। জমি রক্ষার্থে টেকসই বেড়িবাঁধ চাই তাঁর।
সাতক্ষীরার কলারোয়ার একটি জনসভায় তারেক রহমান উপকূলীয় এলাকার সকল সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে জানান বিএনপি মনোনীত এ প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন।
বিএনপি মনোনীত এ প্রার্থী বলেন, ‘কোস্টাল এরিয়া তারেক রহমানের হাত দিয়ে উন্নত হবে, এটি কলারোয়ার জনসভায় তাঁর কমিটমেন্ট। এ ছাড়া সুপেয় পানি, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্য সেবা, কুটির শিল্প সম্প্রসারণসহ উন্নয়নের ব্যবস্থা হবে। এ ছাড়া আশাশুনি হচ্ছে সবচেয়ে অবহেলিত উপজেলা দেশের মধ্যে। এখানকার অধিকাংশ রাস্তা কাঁচা। না আছে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা। বিএনপিই পারে আশাশুনি অঞ্চলে একটি অর্থনৈতিক জোনের ব্যবস্থা করতে।’
এদিকে নির্বাচিত হলে উপকূলীয় এলাকার চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে বলে জানান জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হাফেজ মুহা. রবিউল বাশার। তিনি বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসন, সুপেয় পানির ব্যাবস্থা, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ অবহেলিত আশাশুনির উন্নয়নে কাজ করব আমি নির্বাচিত হলে।’