সাতক্ষীরায় ২৬১ কোটি টাকার টিআরএম এখন জনদুর্ভোগের আখড়া

২৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরার পাখিমারা বিলের টাইডাল রিভারাইন ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) পরিণত হয়েছে জনদুর্ভোগের আখড়া হিসেবে। জলাবদ্ধ হয়েছে কয়েকটি গ্রাম। এ ছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে খাল খনন হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চাষিরা।

জোয়ারের পানি আটকে বড় পরিসরে পলি জমানোর পদ্ধতি টিআরএম হিসেবে পরিচিত। সাতক্ষীরার তালা উপজেলায়, কপোতাক্ষের নাব্যতা ঠিক রাখতে, পাখিমারা ও মাগুরা গ্রামের বিলে অন্তত দেড় হাজার একর জমি নিয়ে তৈরি করা হয় টিআরএম। সরকারের ব্যয় হয় ২৬১ কোটি টাকা।

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চার বছরের মাথায় বন্ধ হয়ে গেছে এর কার্যক্রম। ক্ষতিপূরণ না পেয়ে এসব জমিতে আবাদ করতে শুরু করেন মালিকেরা। কপোতাক্ষ নদের নাব্যতা রক্ষায় আবারও এই কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
 
স্থানীয়রা জানান, যখন মালিকদের জমির টাকা সরকার পরিশোধ করতে পারেনি তখন মালিকেরা আবার তাদের জমিতে আবাদ শুরু করেন।

প্রকল্পের নকশা বাস্তবসম্মত না হওয়ায় টিআরএম অকেজো হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন পরিবেশবাদীরা।

সাতক্ষীরা পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাধব দত্ত বলেন, ‘এ প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে আছে বলে গ্রামের দিকে পানি ধাবিত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে গ্রামের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটি সমীক্ষা প্রয়োজন। এখান থেকে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্য দিয়ে কীভাবে এ অঞ্চলের মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া যায় সে লক্ষ্যে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।’

পাখিমারা বিলে নতুন করে টিআরএমের পরিকল্পনা আপাতত নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, অন্য কোনো বিল আমরা টিআরএমের জন্য বেছে নেব কিনা তা নির্ধারণের সময় বিলটি নদীর কাছাকাছি কিনা দেখতে হবে। পানি এক দিক দিয়ে ঢুকে আরেক দিক দিয়ে বের হতে পারে কিনা সেটি দেখে টিআরএম করতে হবে। 

২০১১ সালের জুলাইয়ে ৯০ কিলোমিটার নদ খনন ও পাখিমারা বিলে টিআরএম বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। শেষ হয় ২০১৭ সালের জুলাই মাসে।