পেঁয়াজের ফলন ভালো, তবে দাম নিয়ে অসন্তুষ্ট কৃষকরা 

পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের অন্যতম শীর্ষ জেলা কুষ্টিয়ায় চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কুমারখালী, খোকসা ও সদর উপজেলায় এখন পেঁয়াজ তোলার ধুম। তবে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেলেও বাজারদর  নিম্নমুখী হওয়ায় অসন্তুষ্ট কৃষকরা। উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকায় বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় তারা। 

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার নগর মোহাম্মদপুর গ্রামের কৃষক রতন আলী শেখ। সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে এবার উচ্চ ফলনশীল জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছেন তিনি। ফলনও হয়েছে ঈর্ষণীয়, বিঘাপ্রতি প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মণ। তবে মাঠের সাফল্য হাটে গিয়ে পরণত হচ্ছে বিষাদে। কাঙ্খিত দাম না পেয়ে ফিরেতে হচ্ছে খালি হাতে।

কৃষকরা বলছেন, চলতি মৌসুমে বীজ, সার আর কীটনাশকের চড়া দামের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রতি মণ পেঁয়াজ ফলাতে খরচ হয়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। অথচ বর্তমান বাজারে যে দাম মিলছে, তাতে আসল টাকা তোলা নিয়েই দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
 
পেঁয়াজ চাষি রতন আলী শেখ বলেন, ‘চলতি মৌসুমে বীজ, সার, কীটনাশক, পরিচর্যাসহ সবকিছুর দাম বেশি হওয়ায় বৃদ্ধি পেয়েছে উৎপাদন খরচ। প্রতিমণ পেঁয়াজ উৎপাদনে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ লেগেছে। কিন্তু বর্তমান বাজার দর উৎপাদন খরচের সমান।’

শুধু কৃষক নয়, এই দরপতন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরাও। তারা বলছেন, দেশি পেঁয়াজের ব্যাপক উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানি বাড়ায় গত বছরের তুলনায় এবার দাম প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।

তবে বিষয়টিকে লোকসান হিসেবে দেখছে না কৃষি বিভাগ। তাদের দাবি, উৎপাদন বেশি হওয়ায় কৃষকদের লাভ হয়তো কিছুটা কম হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে কারিগরি ও পরামর্শমূলক সহায়তা দেওয়ার কথা বলছেন কর্মকর্তারা।

কুমারখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম কমে যায়। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাদের এ ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা না পেলে আগামীতে পেঁয়াজ চাষে বিমুখ হতে পারেন কুষ্টিয়ার চাষিরা, এমনটাই আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।