সুন্দরবন-সংলগ্ন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনিরঘোল এলাকায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের একটি স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়দের একটি দল এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কোস্টগার্ড সদস্য আহত হন।
হামলার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনার প্রায় পৌনে দুই মিনিটের একটি ভিডিও এই প্রতিবেদকের হাতে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, জয়মনিরঘোল এলাকার অসংখ্য নারী-পুরুষ লাঠিসোঁটা হাতে কয়েকটি নৌকায় করে পশুর নদীতে অবস্থানরত কোস্টগার্ডের একটি নৌযানে উঠে হামলা ও ভাঙচুর চালাচ্ছেন।
তবে ঘটনাটিকে স্থানীয়দের হামলা নয়, বরং ‘দুর্বৃত্তদের পরিকল্পিত হামলা ও ভাঙচুর’ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। বাহিনীটির অভিযোগ, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র নিজেদের অপকর্ম পরিচালনার সুবিধার্থে ওই এলাকা থেকে কোস্ট গার্ডকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা, ভাঙচুর, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। সুন্দরবনে বনদস্যু দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কোস্টগার্ডের চলমান কার্যক্রম ব্যাহত করতেই এসব অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, মোংলা থানার জয়মনিরঘোল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ কারণে সেখানে কোস্টগার্ডের একটি স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বনদস্যুদের কাছে রসদ, লজিস্টিক সহায়তা, অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীরা ওই এলাকায় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি চায় না।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বৃহস্পতিবার জয়মনিরঘোল এলাকায় অবস্থিত কোস্টগার্ড স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে কয়েকজন সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।
কোস্টগার্ডের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা বাহিনীর দায়িত্ব পালন ও চলমান অভিযানিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারবে না। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।