মাগুরায় বাঘসদৃশ প্রাণীকে ঘিরে আতঙ্ক

মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নের মাঝিপাড়া এলাকায় একটি বন্যপ্রাণীকে ঘিরে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। শনিবার রাত ১১টার দিকে গ্রামের পাকা সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে একটি মেছো বাঘ দেখা যাওয়ার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় যুবক ইসরাফিল হোসেন জানান, তিনি রাতে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে রাস্তার পাশের ঝোপঝাড় থেকে হঠাৎ একটি বন্যপ্রাণী তার সামনে চলে আসে। অপ্রত্যাশিত এ ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে সাহস করে মোবাইল ফোনে প্রায় ৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ধারণ করেন।

পরে তিনি স্থানীয় বাজারে গিয়ে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানান। প্রথমে অনেকেই তার কথা বিশ্বাস না করলেও ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরপর কয়েকজন মিলে প্রাণীটিকে খুঁজতে বের হলেও রাতের অন্ধকারে আর সেটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে প্রাণীটিকে নিয়ে এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। কেউ এটিকে চিতা বাঘ, আবার কেউ মেছো বাঘ বলে দাবি করছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি দেখা দিয়েছে। কারণ, প্রাণীটি যে স্থানে দেখা গেছে, তার আশপাশে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

মাঝিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইসরাফিলের চাচা ইদ্রিস আলী বলেন, ‘প্রথমে আমার ভাতিজা বলার পরও আমাদের বিশ্বাস হয়নি। পরে সে আমাদের একটি ভিডিও দেখানোর পর আমরা ওই স্থানে দৌড়ে গিয়ে প্রাণীটিকে দেখতে পাই। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেও ধরতে পারিনি। আমরা এলাকাবাসী আতঙ্কে রয়েছি।’ 

ইদ্রিস আলী আরও বলেন, ‘ওই রাতে পাশের একজনের বাড়ি থেকে চারটি মুরগি নিখোঁজ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রাণীটি মুরগিগুলো ধরে খেয়ে ফেলেছে।’

তবে জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা তপেনন্দ্রনাথ ঠাকুর ভিডিওটি পর্যালোচনা করে বলেছেন, ‘এটি একটি মেছো বাঘ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। মেছো বাঘ বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় এখনও দেখা যায়। সাধারণত ঝোপঝাড়, জলাশয় ও পুকুরপাড়ে এদের বসবাস। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’

বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রাণীটিকে উত্ত্যক্ত না করে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এই বিরল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেছে বন বিভাগ।