নরসিংদীর মনোহরদীতে অযু করার সময় বজ্রপাতে একটি মাদরাসার তিন ছাত্র নিহত হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার পাঁচকান্দি মদিনাতুল উলুম মাদরাসায় এ বজ্রপাত হয়। এছাড়া, ঢাকার সাভারে তিনজন, মানিকগঞ্জে দুজন এবং নেত্রকোণা ও জামালপুরে একজন করে নিহত হয়েছে।
ইনডিপেনডেন্টের নিজস্ব প্রতিবেদক ও করেসপন্ডেন্টদের পাঠানো খবর।
নরসিংদী: মনোহরদীর পাঁচকান্দি মদিনাতুল উলুম মাদরাসায় বজ্রপাতে তিন ছাত্র নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছে আরও একজন।
নিহতরা হলো– জহিরুল হক (১৫), আবু রায়হান (১৪) ও আবু জাফর (১৫)। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা ও শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মোসতানশির বিল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, মাগরিবের নামাজের আগে মাদরাসায় অযু করার সময় ৪ ছাত্র আহত হয়। এসময় তাদের উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক ৩ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। একজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সাভার (ঢাকা): সাভারে কৃষি জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে এ ঘটনা হয়।
নিহতরা হলো– দ্বীন ইসলাম (৪৫) ও দুলাল (৬০)। অপর একজনের পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের বরাতে সাভার মডেল থানা পুলিশ জানায়, আজ বিকেলে সাভার উপজেলার
বনগাঁও ইউনিয়ন কোন্ডা এলাকার কৃষি জমিতে কাজ করছিলেন দ্বীন ইসলাম, দুলালসহ আরও এক ব্যক্তি। কাজের একপর্যায়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান দুলালসহ অজ্ঞাত ব্যক্তি৷ এছাড়া মারাত্মকভাবে আহত হন দ্বীন ইসলাম। স্থানীয়রা দ্বীন ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান।
সাভার মডেল থানার ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘বিকেল ৫টার দিকে কৃষি জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই দুলালসহ আরও এক ব্যক্তি নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে দ্বীন ইসলাম নামের আরও একজন মারা যান। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের কাঞ্চননগর এলাকায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় এ বজ্রপাত হয়।
নিহতরা হলেন– কাঞ্চননগর গ্রামের নেওয়াজের ছেলে কবির হোসেন (৩০) এবং রফি মিস্ত্রির ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেলে কবির ও শহিদুল মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির মধ্যেই মাঠে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তারা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত জামাল ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বৃষ্টির সময় খোলা মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”
নেত্রকোণা: নেত্রকোণার বারহাট্রায় মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রপাতে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। রোববার বিকেলে উপজেলার বারহাট্রা ইউনিয়নের বড়গাও গ্রামে এ ঘটনা হয়।
নিহত ব্যক্তির নাম জাহাঙ্গীর তালুকদার (৩৫)। তিনি বড়গাও গ্রামের মৃত আব্দুর রাশিদ তালুকদারের ছেলে।
বারহাট্রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বলেন, ‘বাড়ির পেছন দিকের ফসলি ফাঁকা মাঠে ঘাস খাওয়ানোর জন্যে গরু চড়িয়েছিলেন জাহাঙ্গীর। হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।’
জামালপুর: জামালপুরের মাদারগঞ্জে গরুর জন্য ঘাস কাটার সময় বজ্রপাতে মুসা ফকির (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের উত্তর চরবওলা এলাকায় এ বজ্রপাত হয়।
মৃত মুসা ফকির ওই এলাকার মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।
স্বজনেরা জানায়, আজ বিকেলে গরুর জন্য মাঠে ঘাস কাটতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন মুসা ফকির। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নাহিদ উজ্জামান বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’



