খুলনার কয়রায় সুন্দরবনে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সঙ্গে বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধে শওকত সরদার নামে এক বনদস্যু নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আরও দুই বনদস্যুকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বন বিভাগের কয়রা টহল ফাঁড়ির আওতাধীন সুন্দরবনের ময়দাপেশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সুন্দরবনের গহীনে কোস্টগার্ডের পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানের সময় কুখ্যাত দুলাভাই বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে রাতব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বনদস্যুরা তাদের নৌকা থেকে অতর্কিত গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ড সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। অভিযানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিন বনদস্যুকে উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং পলাতক বনদস্যুদের গ্রেপ্তারে কোস্টগার্ডের অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। অভিযান শেষ হলে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। বর্তমানে পুরো এলাকা কোস্টগার্ডের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নিহত শওকত সরদারের মরদেহ কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। আহত দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করীম জানান, শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে কোস্টগার্ড গুলিবিদ্ধ শওকত সরদারের মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে আসে। তিনি মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত এজাহার সরদারের ছেলে। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ আরও একজনকে হাসপাতালে আনা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অপরদিকে, দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর এলাকার মৃত মানিক গাজীর ছেলে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালের সার্জারি ইউনিটের ১১-১২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে প্রিজন সেলে রাখা হয়।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, নিহত শওকত সরদার এলাকায় শাকাত সরদার নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি দুলাভাই বাহিনীর পরিচালক আজাহারের চাচা। আহত রবিউল ইসলামই বর্তমানে দুলাভাই বাহিনীর প্রধান।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, ‘সারা রাত দুলাভাই বাহিনীর সঙ্গে কোস্টগার্ডের বন্দুকযুদ্ধ চলে। বর্তমানে ঘটনাস্থল ঘিরে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযান শেষ হলে প্রেস ব্রিফিং অথবা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।’