সাথে কোনও রেডিও কলার ক্যামেরা না থাকায় সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া বাঘিনী মুক্তিরাণিকে নজরদারিতে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের। আপৎকালীন সময়ের সঠিক তথ্য পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বন্যপ্রাণী গবেষকরা। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুযায়ী বাঘটি অবমুক্ত করা হয়নি। বনের অন্ধকারে ফেলে দেওয়া হয়েছে তাকে।
প্রায় দুইশ দিনপর সুন্দরবন দেখছে মুক্তিরাণী।
খাঁচা থেকে ডাঙ্গায় নামাতেই টলোমলো। শরীরে চেতনানাশক ওষুধের প্রতিক্রিয়া তখনো শেষ হয়নি। এরপরও ফিরে গেলো নিজ আবাসে।
১২ জুলাই ভোরে খুলনা থেকে অচেতন করে বাঘটিকে মোংলায় আনা হয়। পথে দেওয়া হয় খাবার।
অবমুক্ত করার কয়েক ঘণ্টা পর গবেষক দল বনের ভেতর পরিদর্শনে যান। সেখানে, বাঘটির পায়ের ছাপ দেখে বিচরণ এলাকায় বিশটি ক্যামেরা বসায় তারা।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘বাঘিনী শুরুর দিকে একটু দুর্বল থাকলেও পরে আমরা বনের ভেতর গিয়ে তার হেঁটে যাওয়ার ছাপ লক্ষ করি। সে প্রায় দেড় শ মিটার পথ হেঁটেছে। ধীরে ধীরে চলৎশক্তি ফিরে পাচ্ছে।’
গবেষকরা বলছেন, অবমুক্ত করা বাঘের শরীরে রেডিও কলার ক্যামেরা বসালে সবশেষ তথ্য জানা যেতো। আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মেনে বাঘটি ছাড়া হয়নি বলেও জানান তারা।
বন্যপ্রাণী গবেষক ড. রেজা খান বলেন, ‘অসুস্থ বাঘটিকে সুস্থ করে সুন্দরবনের উন্মুক্ত করা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তারপরও সকলের চেষ্টায় আমরা পেরেছি, এটা বন বিভাগের জন্য একটি মাইলফলক। বন বিভাগের সকল প্রাণী ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা হবে।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগ অধ্যাপক ড.এম এ আজিজ বলেন, ‘সুস্থ বাঘটিকে এখন বাঁচতে হবে নিজের মত করে। প্রকৃতিতে বিচরণ ও শিকার করে খেতে হবে৷ আমরা বিশ্বাস করি বাঘটি সুস্থভাবে আরও অনেকদিন সুন্দরবনের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে থাকবে।’
এ বছর জানুয়ারিতে সুন্দরবনের বৈদ্যমারি এলাকায় হরিণ শিকারীদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘিনীটি। এটি উদ্ধারের পর ছয় মাস চিকিৎসা দেওয়া হয়।