কলকাতার আগুনে নিহত সাজু ও রেবতীর বাড়িতে শোকের মাতম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে আলিমুজ্জামান সাজু ও পাশের তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী রেবতী সরকার। বুধবার রাত ১০টার দিকে তাদের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

আলিমুজ্জামান সাজু ঘের ব্যবসায়ী এবং কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। অন্যদিকে রেবতী সরকার ছিলেন গৃহিণী।

বরেয়া গ্রামের সাহেব আলী সরদার জানান, চার ভাইয়ের মধ্যে ঘের ব্যবসায়ী আলিমুজ্জামান সাজু ছিলেন সবার ছোট। তার সেজ ভাই মাহামুদুন্নবী দীপু সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলে বসবাস করেন। মেঝ ভাই রাজু সরদার তিন বছর আগে, বাবা ইউনুস আলী সরদার আট বছর আগে এবং মা আম্বিয়া খাতুন দুই বছর আগে মারা গেছেন।

তিনি জানান, সাজু বিয়ে করেননি। স্থানীয় একটি মসজিদের পাশে ‘সরদার ভিলা’ নামে বাড়ি নির্মাণ করে একাই থাকতেন। এক সপ্তাহ আগে কোমরের চিকিৎসার জন্য ভারতে যান তিনি। মঙ্গলবার বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় এসে একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই অগ্নিকাণ্ডে তার মৃত্যু হয়।

সাহেব আলী সরদার আরও জানান, সাজুর মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রথমে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন। পরে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের হটলাইনে যোগাযোগ করেন।

সাজুর বন্ধু হাফিজুর রহমান জানান, সাজু এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তার অনেক অবদান রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে তার সঙ্গে কথা হয়েছিল। পরদিন তার দেশে ফেরার কথা ছিল।

তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকার জানান, দুই মাস আগে ছেলে অনিক সরকার ও মেয়ে তৃষা সরকারকে সঙ্গে নিয়ে রেবতী সরকার ভারতের নৈনিতালে শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে যান। কয়েক দিন পর দেশে ফিরে ১২ আগস্ট আবার ভারতে যান তিনি। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর মঙ্গলবার কলকাতার একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। ওই দিন হোটেলের চতুর্থ তলায় আগুন লাগলে রেবতী মারা যান।

কলকাতার মুকুন্দপুরের টেগর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া সাজুর ভাগ্নিজামাই বেল্লাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে হোটেলটির তৃতীয় থেকে পঞ্চম তলায় আগুন লাগে। বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কলকাতার একটি হাসপাতালের মর্গে সাজু ও রেবতীসহ নিহতদের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

দুর্ঘটনাকবলিত শিখা ইন হোটেলের ব্যবস্থাপক কুমারেশ জৈন জানান, মঙ্গলবার রেবতী ও সাজু ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন। রেবতী নিজেকে সাজুর ‘অ্যাটেনডেন্ট’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, ‘আলিমুজ্জামান সাজুর বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি। তবে রেবতীর মরদেহ ফেরত আনার বিষয়ে আমাদের অবহিত করা হয়নি। এরপরও আমরা দুজনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চেষ্টা করছি। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’