জামালপুরে ২ উপজেলায় নদী ভাঙন, বিলীন শতাধিক ঘরবাড়ি

যমুনার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও ইসলামপুরে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। গত দুই সপ্তাহে বিলীন হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে আছেন নদী তীরের বাসিন্দারা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একই আশ্বাস, ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্ষার শুরুতেই যমুনার ভাঙনে বিপাকে পড়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার কয়েকটি এলাকা। এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন ফসলের খেত। ভাঙন অব্যাহত থাকায় ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি, একটি গুচ্ছগ্রামসহ নানা স্থাপনা।

নদী ভাঙনের শিকার স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘নদীর ধারে ৫০–৬০ বিধা জমি কলাবাগান ছিল। সবকিছু এই কয়দিনে ভেঙে গেছে।’

স্থানীয় আরেক নারী বলেন, ‘আমাদের গাছপালা, আবাদের জমি ভাঙছে। এখন বাড়ি ধরছে।’ 

প্রতি বছরই ভাঙনের শিকার হলেও, বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে ভাঙনরোধের দাবি জানিয়ে কোনো লাভ হয়নি, অভিযোগ এলাকাবাসীর।

নদীতে বিলীন হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন ফসলের খেত। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনস্থানীয় এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ‘এমপি–মন্ত্রী আংগোর (আমাদের) এলাকায় আসে দেহি। যাওয়ার পর শুধু কাজের কতা কয়, আশা দিয়া যায়। কিন্তু কাজ আর হয় না।’

নদী ভাঙন যাতে রোধ করা যায় এ জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ইসলামপুরের কাট্মা এলাকায় ভাঙনরোধে চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাদারগঞ্জের পাকরুল এলাকায় জন্য পাঠানো হয়েছে প্রস্তাবনা।

জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পাকরুল এলাকায় আমরা ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা দিয়েছি। যেটি পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি কাট্মা এলাকায় যে ভাঙন রয়েছে, সেই অংশে আমরা এরই মধ্যে জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাস্তবায়ন করছি।’

কাট্মা ও পাকরুল এলাকার ১৮ শ মিটার অংশ রয়েছে বেশি ঝুঁকিতে। অস্তিত্ব রক্ষায় স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।