নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেও বেড়েছে দুর্ভোগ 

নেত্রকোণায় বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে আসলেও বেড়েছে দুর্ভোগ। প্লাবিত এলাকার মানুষেরা তাঁদের গবাদিপশু নিয়ে পড়েছে বিপাকে। খেটে খাওয়া মানুষেরা কাজ না পাওয়ায় তাঁরাও বিপাকে রয়েছে।

এদিকে বানের পানিতে ডুবে আরও এক শিক্ষার্থী মারা গেছে। তবে নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় প্লাবিত এলাকায় কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে সেখানের লোকজন।

নেত্রকোণা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘উব্ধাখালি নদীর পানি কলমাকান্দা পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল হয়ে বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এছাড়া ধনু নদের পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় খালিয়াজুরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’

স্থানীয়রা জানায়, জেলার কলমাকান্দা, বারহাট্রা, সদর, দুর্গাপুর, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরীতে অন্তত ১২০টি গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘নতুন করে উব্ধাখলি নদীর পানি কিছুটা কমায় পরিস্তিতির উন্নতি হচ্ছে। তাছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়নি। রোদ উঠায় মানুষজনের দুর্ভোগ কমে আসছে।’
বারহাট্রার রায়পুর ইউনিয়নের তেঘরিয়া গ্রামের হাসিদাবানু বলেন, ‘তিন-চার দিন ধইর‍্যা বাড়িতে পানি ঢুকছে। আমার দুই ছেলে মানুষের বাড়িতে কাম কইর‍্যা কায়। অহন তাঁদের হাতে কাম নাই। আমরা কোনোরকমে দিন পার করতাছি।  চেয়ারম্যান, মেম্বার, সরকারের কেউই আমরার কোনো খোঁজ নেয় নাই।’

একই রকম কথা জানায় গ্রামটির অনেক পানিবন্দি মানুষ।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, ‘শুক্রবার দুপুরে কলমাকান্দার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাতকান্দা গ্রামের আবু কালামের ১০ বছরের ছেলে রিফাত হোসেন বাড়ির সামনের সড়কে বানের পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে মারা যায়। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার মোহনগঞ্জ উপজেলার মাঘান সিয়াধার ইউনিয়নের গৌড়াকান্দা গ্রামের মিন্টু মিয়ার ৮ বছরের শিশু  তোরা মণি বাড়ির সামনে ঢলের পানিতে ডুবে মারা যায়।’