নেত্রকোণায় লোকালয়ে  ঢুকছে পানি, বিপদে নিম্নাঞ্চলের মানুষ

নেত্রকোণায় টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে নতুন করে আবারো বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার প্রধান নদী উব্ধাখালি নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমা ওপর দিয়ে বইছে। এছাড়াও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সোমেশ্বরী, কংশ ও ধনু নদীর পানি।

নদীর পানি বাড়ায় কলমাকান্দার নীচু এলাকাগুলোর লোকালয়ে পানি ঢুকছে। কিছু কিছু এলাকায় গ্রামীণ সংযোগ সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে। গোখাদ্য নিয়ে কৃষকেরা পড়েছেন বিপাকে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারোয়ার জাহান বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুর ১২টা নাগাদ উব্ধাখালির পানি কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়াও সোমেশ্বরী ও কংশের পানিও বাড়ছে। সোমেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে দুর্গাপুর পয়েন্টে ১ দশমিক ৪৯ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে বইছে। কংশের পানি বেড়ে জারিয়া পয়েন্টে ৬৩ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে বইছে। হাওরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া ধনু নদের পানি বেড়ে বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে বইছে।’

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘উব্ধাখালি নদীর পানি বেড়ে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নেরই নিম্নাঞ্চল কমবেশি প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সদর, বড়খাপন, পোগলা ও কৈলাটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল বেশি প্লাবিত হয়েছে। কিছু বাড়ির আঙিনায় পানি ঢুকেছে। এছাড়াও নাজিরপুর, লেঙ্গুরা ইউনিয়নেরও কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মানুষের পানিবন্দি হওয়ার খবর আমাদের কাছে নেই। তবে আমাদের সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সতর্ক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে আসার মতো অবস্থা হয়নি। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতসহ পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

তবে স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে পানি ঢুকেছে। সপ্তাহখানেক আগেও জেলার কলমাকান্দা উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছিল। তখনও সেখানকার মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

এমন অবস্থায় গতকাল সোমবার থেকে নতুন করে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগের মধ্যে পড়ার কথা জানিয়েছেন, সদর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হারাধন সরকার। হারাধন বলেন, ‘গ্রামের অন্তত ৩০০ পরিবারের বাড়ির আঙিনায় পানি ঢুকেছে। রোববার থেকে পানি বাড়তে শুরু করে। যত সময় এগুচ্ছে ততই যেন ভয়াবহ হয়ে উঠছে।’

বড়খাপন ইউনিয়নের বাউসারি গ্রামের জামাল মিয়া বলেন, ‘গ্রাম থেকে মূল সড়কে যাওয়ার সংযোগ সড়ক ডুবে গেছে। আশপাশের গ্রামগুলোতেও পানি ঢুকেছে। বাড়ির চারপাশেই পানি আর পানি। হু হু কইর‍্যা পানি বাড়তাছে। গরু-বাছুর লইয়া বিপদে পড়ছি।’

বরুইউন্দ গ্রামের আল আমিন মিয়া বলেন, ‘চোখের সামনে দেখতে দেখতে পানি বাইর‍্যা গেছে। কয়েকদিন আগেই একটা বন্যা কাটায়া উঠলাম। অহনও হেই বন্যার জেরই কাটায়া উঠি নাই। নতুন বিপদ সামনে আইছে।’

উপজেলার আমবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা জমির উদ্দিন বলেন, ‘গ্রামের চাইদিক দিয়াই পানি। নদীর পানি বাইড়া হুর হুর কইর‍্যা পানি আইতাছে। পানি বাইড়্যাই চলতাছে। আরও বৃষ্টি অইবো মনে হইতাছে। কি যে করাম।’