নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় একটি রাস্তা সংস্কারে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ করা নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এসময় অন্তত ৪০ জন আহত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পিজাহাতি গ্রামে এই সংঘর্ষ হয়।
নিহত ইনচান মিয়া (৬০) উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের পিজাহাতি গ্রামের মৃত হালু মিয়ার ছেলে। ইনছান মিয়া পেশায় ছিলেন একজন দিনমজুর। আহতদের নাম–পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, পিজাহাতি গ্রামে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি রাস্তা পাকাকরণের কাজ পান একই গ্রামের বাসিন্দা ও ঠিকাদার রেজাউল করিম সুমন। রাস্তার কাজ প্রায় ৫০ শতাংশ শেষ হয়। এর মধ্যে রাস্তাটির বাস্তবায়ন সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছে নিন্মমানের কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন একই গ্রামের আতিকুর রহমান। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কয়েক দিন আগে সরজমিনে তদন্ত করে এলজিইডির কর্মকর্তারা। এরপর থেকে ঠিকাদার ও অভিযোগকারী পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ অবস্থার মধ্যে আজ বিকেলে রেজাউল করিম সুমন ও আতিকুর রহমানের লোকদরে মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ানো উভয়পক্ষের অন্তত ৪০জন আহত হয়। এর মধ্যে ঠিকাদার সুমনের পক্ষের গুরুতর আহত ইনছান মিয়াকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইনছান মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠায়।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, ‘রাস্তা সংস্কার কাজ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিবাদ চলে আসছিল। এর জেরে আজ সংঘর্ষে ইনছান মিয়া নিহত হয়েছেন। অনেকেই আহত হয়েছে।’
ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল উল্লেখ করে ওসি বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমদাদুল হক তালুকদারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘নিহত ইনছান মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্যে মরদেহ নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। হত্যায় জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’