নেত্রকোণায় স্কুলছাত্রী হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলায় স্কুলছাত্রী মুক্তি রাণী বর্মণকে (১৬) কুপিয়ে হত্যা মামলার দুই বছর পর একজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

আজ মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান আদালতে আসামি কাউছারের উপস্থিতিতে এই রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. কাউছার  মিয়া (১৯) উপজেলার বাউসী ইউনিয়নের প্রেমনগর ছালিপুরা গ্রামের ছামছুদ্দিনের ছেলে। 

স্কুলছাত্রী মুক্তি রাণী বর্মণ একই গ্রামের নিখিল চন্দ্র বর্মনের মেয়ে এবং প্রেমনগর ছালিপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল হাশেম। তিনি জানান, মুক্তিকে প্রেম নিবেদন করে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন কাউছার। ঘটনার দিন ২০২৩ সালের ২ মে বিকেল আড়াইটার দিকে মুক্তি বিদ্যালয় ছুটির পর তার দুই বান্ধবীর সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। পথে কাউছার অতর্কিতে তার ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে প্রথমে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় বিকেল ৫টার দিকে পথেই তার মৃত্যু হয়। পরে নিহতের একদিন পর ৪ মে কাউছারকে আসামি করে থানায় মামলা করেন, মুক্তির বাবা নিখিল চন্দ্র বর্মন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। মামলায় ১৭ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য দেন। আজ আদালতের বিচারক কাউছারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেন।

আসামি পক্ষের কোনো আইনজীবী না থাকায় স্টেট ডিফেন্স হিসেবে কাউছারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী দেলুয়ারা বেগম।

এর আগে বিকেল ২টা ৫৫ মিনিটে আসামিকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। বেলা ৩টায় আদালতের এজলাস কক্ষে বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান নিজের আসনে বসেন। পরে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে বিচারক মামলার রায় পড়েন। এ সময় আসামি কাউছারকে উদাস অবস্থায় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। রায়ের সময় আদালতে আসামি কাউছারের কোনো স্বজনকে দেখা যায়নি।

রায় প্রদানের সময় মুক্তির মা, বাবা ও বোনেরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন মুক্তি বর্মণের বাবা ও মা।

মুক্তির মা প্রণবা রাণী বর্মণ বলেন, ‘আমি চাই আমার মুক্তির মতো আর যাতে কোনো মাকে তার মেয়েকে হারাতে না হয়। ফাঁসির রায় হয়েছে, এতে আমরা খুশি। এই রায় যাতে দ্রুত কার্যকর হয়, এটাই আমার প্রার্থনা।’

মুক্তির বাবা নিখিল চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘যে রায় দিছে এই রায়ের প্রতি আমি খুশি হইছি। বিচারপতির প্রতি কৃতজ্ঞ। এই রায় অহন যদি কার্যকর হয়, তাইলে আমি অত্যন্ত খুশি। বিচারপতি যে রায় দিছেন এইটা যাতে কার্যকর হয়।’

বাদী পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল হাশেম মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মামলাটি অত্যন্ত নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর। মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি।

২০২৩ সালে হত্যা ঘটনার পর নৃশংসতার ধরনে জেলার সর্বস্তরের মানুষ ক্ষুব্ধ হন। তার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন কাউছারের বিচার চেয়ে মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছিলেন।