বন্ধ হয়ে গেছে শেরপুরের চার শতাধিক চাতাল ও রাইসমিল। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়া এবং লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে মিলগুলো। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক। এদিকে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে না পাড়ায় ঋণখেলাপি হয়েছেন বেশিরভাগ চালকল মালিক।
শেরপুরের চালকলের চুলাগুলোতে এক সময় রাত-দিন সিদ্ধ করা হতো ধান। চাতাল ব্যবসা ঘিরে জেলার অর্থনীতি ছিল রমরমা। তবে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারসহ নানা প্রতিকূলতায় এখন ধ্বংসপ্রায় চাতাল শিল্প। চুলার চারপাশ ভরে গেছে আগাছায়। লোকসান গুনতে গুনতে নিঃস্ব চাতাল মালিকরা।
চাতালের জায়গা দখল করেছে আধুনিক ড্রায়ার ও অটোরাইস মিল। অটোমিলগুলোতে উৎপাদন খরচ কম। এছাড়া, খোলা বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় চাল উৎপাদনে লোকসানের কারণে নিঃস্ব ব্যবসায়ীরা।
ব্যাংক ঋণ না পাওয়া এবং অতিরিক্ত উৎপাদন খরচের কারণে অনেক চাতাল মালিক ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। পুঁজির অভাবে মিল বন্ধ হওয়ায় বেকার ২০ হাজার শ্রমিক।
চাতাল বন্ধ হওয়ায় ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে বিপাকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা। এর সুরাহার আহ্বান ব্যবসায়ী নেতাদের।
শেরপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্টিজের সভাপতি মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘অটো রাইস মিলের ব্যবসায়ীরা কোটি টাকা নিয়ে ব্যবসায় নেমেছে। আর আমরা লাখ টাকার ব্যবসায়ী, আমাদের বাকি পড়লে ব্যবসা এমনিতেই বন্ধ থাকে। যদি সরকার প্রণোদনা দেন তাহলে ফের সমৃদ্ধ হবে এই জেলার চাতাল শিল্প। তাই সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।’
শেরপুরে বর্তমানে অর্ধশত চাতাল আছে। আর অটো রাইস মিল দেড় শতাধিক।