টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বাড়ছে দুর্ভোগ। বন্যার পানি না নামতেই আবারও বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি। এতে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি ও মৎস্য সম্পদ। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, লালমনিরহাট, নেত্রকোণা, গাইবান্ধা, বগুড়া।
হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বন্যার ক্ষত এখনো কাটেনি। এরই মধ্যে থেমে থেমে বৃষ্টি বাড়িয়েছে দুর্ভোগ। চার ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। প্রাথমিক হিসাবে, মৎস্য খাতেই ক্ষতি ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকা।
সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানি বেড়ে আবারও তলিয়ে গেছে শক্তিয়ারখলা সড়ক। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে জেলা সদর ও তাহিরপুরের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ।
মৌলভীবাজারে নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে আসায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে রাজনগরের অন্তত আট থেকে দশটি গ্রাম এখনো পানিবন্দি। পানি ধীরে নামায় গ্রামীণ সড়ক, ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি নিয়ে দুর্ভোগে বাসিন্দারা।
উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় টানা বর্ষণে বগুড়া মহানগরে বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে জলাবদ্ধতা।
ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
নেত্রকোণায় উপদাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে ব্যাহত হচ্ছে আমনের বীজতলা প্রস্তুত ও বীজ বপন। নেত্রকোণা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির প্রভাবে জেলায় আমন বীজতলায় কৃষকেরা বীজধান বপন করতে পারছেন না। জেলায় ১ লাখ ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রার জন্যে ৬ হাজার ৭৩৫ হেক্টর বীজতলা প্রস্তুত করছেন কৃষকেরা। এ নাগাদ ৩ হাজার ৪৪৬ হেক্টর বীজতলায় বপন করা হলেও বাকি জমিতে বৃষ্টির জন্যে বীজ বপন করা যাচ্ছে না।
গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই এমন জলাবদ্ধতা, অভিযোগ শহরবাসীর।