জামালপুরে গ্যাসের দাবিতে সাড়ে ৪ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ

সাড়ে ৪ ঘণ্টা জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা। ছবি: ইনডিপেনডেন্টনতুন গ্যাস পাম্প স্থাপন ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিকের দাবিতে সাড়ে ৪ ঘণ্টা জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা। 

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে জামালপুর বিসিকের সামনে নতুন বাইপাস মোড়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন চালকেরা। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতারের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা।

এদিকে আন্দোলনের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও কর্মস্থলগামী মানুষ। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, পিকআপ ও ছোট যানবাহনের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। অনেককে যানবাহন ছেড়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। অবরোধ প্রত্যাহারের পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামালপুরে দীর্ঘদিন ধরে জাবেদ ফিলিং স্টেশন নামে মাত্র একটি গ্যাস পাম্পে সিএনজিতে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর বিপরীতে বিআরটিএ নিবন্ধিত প্রায় ৩ হাজার সিএনজি রয়েছে। এছাড়া বাইরে থেকে আসা সিএনজিসহ জেলায় চলাচলকারী মোট সিএনজির সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার।

রাস্তার মাঝখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রেখে মহাসড়ক অবরোধ করেন চালকেরা। ছবি: ইনডিপেনডেন্টচালকদের অভিযোগ, বিপুল সংখ্যক সিএনজির বিপরীতে মাত্র একটি গ্যাস পাম্প থাকায় প্রতিদিনই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এরপরও অনেক সময় পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায় না। গ্যাস সংকটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরতে হয় চালকদের। এতে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।

সিএনজি চালক আজিজুল হক বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটে ভুগছি। একটি মাত্র পাম্পে হাজার হাজার সিএনজি গ্যাস নিতে আসে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় গ্যাস পাওয়া যায় না। এতে আমাদের দিনের আয় নষ্ট হয়। নতুন গ্যাস পাম্প স্থাপন ও গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানের দাবিতেই আমরা মহাসড়ক অবরোধ করেছি।’

আরেক সিএনজি চালক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের সমস্যার কথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুনেছেন। তিনি দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তার আশ্বাসের পর আমরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’

অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও কর্মস্থলগামী মানুষ। ছবি: ইনডিপেনডেন্টজামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, ‘চালকদের দাবিগুলো আমরা শুনেছি। গ্যাস সংকট ও নতুন গ্যাস পাম্প স্থাপনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, ‘গ্যাস পাম্প ও গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি চালকরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ প্রত্যাহারে উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্বাসের পর তারা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’