সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে নিজের ছেলে-মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাওরে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কামরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পুলিশ বলছে, নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে পানিতে ফেলে নিজ সন্তানদের হত্যা করেন তিনি। গ্রেপপ্তারের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
গতকাল বুধবার কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দিরাই উপজেলার মধুপুর পেরুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং একজন ফেরিওয়ালা। মা, স্ত্রী ও চার সন্তানসহ সাত সদস্যের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক টানাপোড়েন ও পারিবারিক কলহ চলে আসছিল।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট স্ত্রী ও পরিবারের সাথে কলহের জেরে সাত বছরের ছেলে মুহাদ্দিস এবং পাঁচ বছরের মেয়ে তুলনাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে সিলেটে যান কামরুল। যাত্রাপথে বড়কাপন এলাকার একটি হাওরে ৫ বছরের কন্যা সন্তান তুলনাকে পানিতে ফেলে হত্যা করেন তিনি।
এরপর দুই দিন সিলেটে আত্মগোপনে থেকে রোববার সাত বছরের ছেলে মুহাদ্দিসকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকার হাওরে ফেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
ঘটনার পর গত বুধবার রাতে কামরুল বাড়িতে ফিরে এলে পরিবারের লোকজন সন্তানদের বিষয়ে জানতে চায়। তখন তিনি সন্তানদের নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজান। পরিবারের সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ মধুপুর গ্রামে গিয়ে কামরুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজ সন্তানদের হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য স্বীকার করেন।
এর আগে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে শান্তিগঞ্জ উপজেলার একটি হাওর থেকে অজ্ঞাত এক কন্যাশিশুর এবং সদর উপজেলার গোবিন্দপুরের দেখার হাওর থেকে এক ছেলে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কামরুলের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক কামরুল ইসলাম তার দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পারিবারিক কলহের জেরে তিনি এই নৃশংস পথ বেছে নেন বলে জানা গেছে। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে ওই দুটি শিশুকে হাওরে ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জ অথবা সুনামগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে (কামরুলকে) সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।’
দুই সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা আফরোজা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার শিশুদের কি দোষ ছিল? আমার বুক খালি করে দিছে এই পাষণ্ড। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই, আমার সন্তান হত্যার দায়ে এই ঘাতক স্বামীর ফাঁসি চাই।’
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া দুইটি শিশুর মরদেহ দেখে নিজের সন্তান দাবি করেছেন মা আফরুজা বেগম। পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’



