জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাচা ও ভাতিজাকে হত্যার দায়ে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে মৃতদণ্ড পাওয়াদের ৫০ হাজার টাকা ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আসামিদের ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন—শাখাওয়াত, সোহেল, আল আমিন, সাদ্দাম, অন্তর, উজ্জ্বল ও ফয়জুর। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন—চান মিয়া, জিয়ার, শাহ আলম, কাওছার, সুমন, রিফাত ও মোস্তফা।
সাজা পাওয়া সব আসামি এবং বাদীপক্ষ জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে মোবাইল ফোনে কল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন গজারিয়া গ্রামের মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন। অভিযুক্ত সাখাওয়াত ও সোহেল গজারিয়াতে গান গাওয়ার কথা বলে তাদের নিয়ে যায়। এরপর থেকে তারা আর বাড়ি ফিরে আসেনি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মাদারগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে ১৯ মে বিকেলে স্থানীয় ভানু ফকিরের পাটক্ষেতে দুটি ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ ও পরিবারকে খবর দেয় স্থানীয়রা।
পরনের পোশাক দেখে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করেন স্বজনরা। বিবাদীরা অ্যাসিড দিয়ে তাদের মুখমণ্ডল বিকৃত করে ঘটনাস্থলে মরদেহ ফেলে রেখে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম জানান, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাদের প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এ ঘটনায় ১৯ মে সাখাওয়াত, সোহেল, মাফিজুল ও জিয়ারসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে বিবাদী করে মাদারগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম আরও জানান, দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং ১৮ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন আদালত। এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ।