শেরপুরে পাখি শিকারির ৭ দিনের কারাদণ্ড

শেরপুরে পাখি শিকারের দায়ে নেজামুল নামে এক ব্যক্তিকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তার কাছ থেকে শিকারের সরঞ্জামসহ ১২টি বক ও ছয়টি বেগুনি কালেম উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা শেরপুর সদর উপজেলার ধলা ও কামারিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, শেরপুর বার্ড ক্লাব এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইনের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আটটি হাল (পাখি শিকারের সরঞ্জাম), ১৪টি ফাঁদ, শিকার করা বকসহ ১২টি বক এবং ছয়টি বেগুনি কালেম উদ্ধার করা হয়।

অভিযান চলাকালে কামারিয়া ইউনিয়নের আলীনাপাড়া গ্রাম থেকে পাখি শিকারি নেজামুলকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করেন। সাজা পাওয়া নেজামুলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান।

একই দিন বিকেলে উদ্ধার করা বক ও বেগুনি কালেমগুলো প্রকৃতিতে অবমুক্ত করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ।

এ ছাড়া পাখি সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়।

অভিযানে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার, ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রকৃতি-পরিবেশবাদী সংগঠন শাইনের নির্বাহী পরিচালক এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. মুগনিউর রহমান মনি, স্বেচ্ছাসেবকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় পাখি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। তাই পরিযায়ী ও দেশীয় পাখি সংরক্ষণে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। পাখি শিকার বন্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।’