পুলিশ ফাঁড়িতে দুই যুবলীগ নেতাকে পেটাল এমপির লোকজন

বগুড়া সদর পুলিশ ফাঁড়িতে যুবলীগের দুই নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসান রিপুর সঙ্গে আসা অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার তিনদিন পার হলেও এ ব্যাপারে থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ বা মামলা করেননি কেউ। 

হামলায় আহত যুবলীগ নেতা জিয়াদুশ শরীফ পরাগ ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরাগ জেলা যুবলীগের উপপ্রচার সম্পাদক। এ সময় জেলা যুবলীগের সদস্য শিহাব উল আলম ও আদনানও হামলার শিকার হয়েছেন।
 
এ ব্যাপারে বগুড়া সদর ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন মিঞা বলেন, ‘এমন ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। মারামারি বা ভীতি প্রদর্শনের মতো কোনো ঘটনা পুলিশের সামনে হয়নি।’
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার রাতে জিলা স্কুলের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন শাজাহানপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম। এসময় সাতমাথা থেকে উল্টো পথ দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে পুলিশ প্লাজার দিকে যাচ্ছিল সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসানের ছেলে প্রতীত আহসানের বন্ধু আবীর।
 
এসময় আবীরের মোটরসাইকেল ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুলের গায়ে লাগলে বাকবিতণ্ডা হয়। যুবলীগের দুই নেতা জিয়াদুশ ও শিহাব ছাত্রলীগ নেতার পক্ষ নিয়ে আবীরকে গালমন্দ করে বাইকসহ আটকে রাখে। এসময় আবীর সংসদ সদস্যের ছেলেকে ফোন দেয়। পরে লোকজন নিয়ে আবীরকে সেখান থেকে ছাড়িয়ে নিতে আসে সংসদ সদস্যের ছেলে। এতে গণ্ডগোল বেঁধে যায়।

সদর ফাঁড়ি পুলিশ তাদের মীমাংসা করাতে থানায় নিয়ে যায়। রাত ১২টা দিকে সংসদ সদস্য থানায় ঢুকলে তার সঙ্গের লোকজন পরাগ, মোহাম্মদ আলী, শিহাব ও আদনানকে মারধর করে।
 
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসান বলেন, ‘আমি ফাঁড়িতে গিয়ে আমার ছেলেকে ছেড়ে দিতে বলিনি। যদি তার অপরাধ থাকে তাহলে কাস্টোডিতে নেওয়ার জন্য বলেছিলাম। আর যদি অপরাধ না থাকে তাহলে তাকে ছেড়ে দিতে বলেছিলাম। আমার ছেলেটা অপারেশনের রোগী। কয়েক দিন আগে অস্ত্রোপচার হয়েছে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমি বাবা হিসেবে শঙ্কিত হয়ে ছেলের কাছে গিয়েছি।’
 
এ বিষয়ে আহত যুবলীগের উপপ্রচার সম্পাদক পরাগ বলেন, ‘সংসদ সদস্য আমাকে ভালোভাবেই চেনেন কিন্তু সেদিন রাতে আসা ছেলেরা আমাকে হয়তো চেনেননি।’ তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে বিচার দাবি করেন তিনি।