ছুটিতে বাড়ি এসে অপহৃত, ঈদের দিন মিলল লাশ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে মারুফ হোসেন নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জেলার তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগড় ইউনিয়নের ঝুরঝুরি বাজারের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মারুফ হোসেন তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগড় ইউনিয়নের ঝুরঝুরি গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে। সে সলঙ্গা থানার একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত। ঈদের ছুটিতে সে ৫ এপ্রিল বাড়ি আসে এবং সেদিনই অপহৃত হয়।

মরদেহ উদ্ধার অভিযান চলাকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মারুফ হোসেন জানান, গত ৫ তারিখে তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগড় ইউনিয়নের ঝুরঝুরি বাজার থেকে মাদ্রাসা ছাত্র মারুফ হোসেন নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পরদিন তাড়াশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি ও র‌্যাব-১২ হেডকোয়ার্টারে অভিযোগ প্রদান করে নিখোঁজ ছাত্রের পিতা মোশাররফ হোসেন।

এর পর র‌্যাব-১২ এর সদস্যরা মারুফ হাসানের উদ্ধার অভিযানে নামে। মারুফকে অপহরণ করা হয়েছে এই সন্দেহে তাড়াশ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে আবুল হাশেম, রফিকুল ইসলাম, আল-আমিন নামে তিন যুবককে আটক করে র‌্যাব সদস্যরা। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ ১১ এপ্রিল ভোরে তাড়াশ থানার ঝুরঝুরি বাজারে তালুকদার মার্কেটের পেছনে সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওমর ফারুক ও কাউসার হোসেন নামে আরও দুই যুবককে আটক করে র‌্যাব সদস্যরা। মুক্তিপণ নাকি অন্য কোনো কারণে মাদ্রাসার ছাত্রকে অপহরন করে হত্যা করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১২ অধিনায়ক আরও জানান, মাদ্রাস ছাত্র কিশোরকে অপহরন করার পর থেকে তার পিতার নিকট মুক্তিপন দাবি করা হয়েছিল, এমনকি তাকে হত্যা করার পরও মুক্তিপন চাওয়া হয়েছে। এঘটনায় তাড়াশ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের বাবা মাদ্রাসার প্রভাষক, মা গৃহিনী।

নিহতের মরদেহ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।