পাবনায় বিদ্যুতায়িত হয়ে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের  

পাবনা সাঁথিয়ায় মাদ্রাসার টিনের চাল থেকে বল আনতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে তানজিল হোসেন (০৭) নামের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। তানজিল উপজেলার করমজা ইউনিয়নের পুন্ডুরিয়া গ্রামের মিন্টু প্রামানিকের ছেলে। উপজেলার পুন্ডুরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় আজ রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে শুক্রবার একই মাদ্রাসার টিনের চালেই বল আনতে গিয়ে বিল্লাল হোসেন (০৯) নামের এক শিশু বিদ্যুৎতায়িত আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহত বিল্লাল বাওইটোলা গ্রামে তার নানা বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। সে সাঁথিয়া উপজেলার সোনাতলা গ্রামের রওমের ফকিরের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো পুন্ডুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তানজিল বন্ধুদের সঙ্গে খেলছিল। একপর্যায়ে ফুটবলটি পুন্ডুরিয়া দাখিল মাদ্রাসার টিনের চালের ওপরে আটকে যায়। তানজিল গ্রিল বেয়ে ওপরে থেকে সেটি আনতে যায়। এ সময় টিনের চালে বিদ্যুৎতায়িত হয়ে আটকে যায় সে। কিছুক্ষণ পর মাটিতে ছিটকে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পুন্ডুরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্টের বাড়ি ঘেরাও করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত শুক্রবার পুন্ডুরিয়া দাখিল মাদ্রাসার একই টিনের চালে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে আরেক শিশু বিল্লাল। এরপরেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কেন বিদ্যুৎ সংযোগটি মেরামত করেনি। ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানান এলাকাবাসী।

আহত বিল্লালের বাবা রওমের ফকির বলেন, ‘আমার ছেলে পুন্ডুরিয়া মাদ্রাসার চালে বিদ্যুৎতায়িত হয়ে চাল থেকে পড়ে যায়। এতে ওর মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে গেছে। আমার ছেলেকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে, ওর অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

শিশু তানজিল হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মাহমুদুল করিম রাজু বলেন, ‘বিদ্যুতায়িত হওয়া ছেলেটিকে হাসপাতালে আনার পর আমাদের কর্তব্যরত চিকিৎসক বুঝতে পারেন সে ঘটনাস্থলেই মারা গেছে।’

পুন্ডুরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট আলহাজ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘গত শুক্রবার একটি ছেলে বিদ্যুতায়িত হওয়ার পর আমরা টেস্টার–মেস্টার দিয়ে চেক করে দেখছিলাম তো। কোথাও তো সমস্যা পাই নাই। আজ কীভাবে যে কি হলো, ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। আর এমনিতেই তো ছেলেরা চালে উঠে লাফালাফি করে। এতে দুর্ঘটনা হতেই পারে।’