জয়পুরহাটে সরকারি খাস পুকুর দখল নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এত উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সদর উপজেলার পশ্চিম পেঁচুলিয়া গ্রামের কোঁচ পুকুর এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় করা মামলায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জয়পুরহাট পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগপত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, মৎস্য সমিতির নামে লিজ নিয়ে দীর্ঘদিন দুই একর আয়তনের কোঁচপুকুরে মাছ চাষ করছেন পেঁচুলিয়া গ্রামের রাজেন বর্মণ ও তার লোকজন। তবে, পার্শ্ববর্তী জিতারপুর গ্রামের মাওলা, রব্বানী ও ছালামের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন পুকুরটি নিজেরা ইজারা নিয়েছেন দাবি করে তারা মাছের পোনা ছাড়েন এবং পাড়ের বাঁশ কাটতে থাকেন। এ অবস্থায় রাজেন বাঁধা দিলে দুই পক্ষে সংঘর্ষ হলে উভয় পক্ষের ৮ জন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন-পশ্চিম পেঁচুলিয়া কোচপাড়া গ্রামের শংকর বর্মনের স্ত্রী পবিত্রা রানী (৩২), উত্তম বর্মনের ছেলে মিঠুন বর্ম (২৫), উত্তমের স্ত্রী বিজলী রানী (৫০), মৃত ললিত বর্মনের ছেলে ছোট বাবু বর্মন (৫২), রঞ্জিত বর্মনের স্ত্রী অর্চনা বর্মন (৩২) ও অজিত বর্মনের স্ত্রী ভারতী রানী (৫২) এবং প্রতি পক্ষের জিতারপুর গ্রামের আ্ব্দুস সামাদ (৬০) ও গোলাম মওলা (৫২)। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে জয়পুরহাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আহত ছোট বাবু বর্মন ও পবিত্রা রানী অভিযোগ করে জানান, তারা মৎসজীবি দরিদ্র মানুষ। তারা প্রকৃত মৎসজীবি বলে সরকারি ওই পুকুরটি তারা সরকারের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে কোন রকমে জীবন যাপন করছেন। ইজারার মেয়াদ মাত্র কিছু দিন শেষ হলেও তাদের ছেড়ে দেওয়া মাছগুলি রয়েছে। এ অবস্থায় অবারো তারা ইজারা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। এরই মধ্যে প্রতিপক্ষ প্রভাবশালীরা পুকুরটি ইজারা নিয়েছেন বলে জোর করে দখলে নিতে আসলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে সুভাষ চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় মামলা দায়ের করলে প্রতি পক্ষের ৪ জনকে গ্রেপ্তারর করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জয়পুরহাট সদর উপজেলা পেঁচুলিয়া পলাশতলী গ্রামের আফসার আলীর ছেলে গোলাম রব্বানী (৫০), গোলাম মাওলা (৪৮) জিতারপুর গ্রামের আব্বাস আলী মোতাহার হোসেন (৫৩) পেঁচুলিয়া পলাশতলী গ্রামের গোলাম রব্বানী ছেলে জামিউল (১৭)।
এ বিষয়ে পরবর্তীতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব।