সিরাজগঞ্জের চৌহালিতে ১৩ বছর বয়সী এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে ফকির জুয়েল রানা নামের স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফকির জুয়েল রানাকে শোকজ করা হয়েছে।
গতকাল রোববার রাতে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত পত্রে এ তথ্য জানানো হয়।
পত্রে বলা হয়, ফকির জুয়েল রানার বিরুদ্ধে শিশু বলাৎকারের অভিযোগ উঠছে। যা রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দলের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে জুয়েল রানার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদ মোল্লা বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরই অভিযুক্ত জুয়েল রানাকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে দলের পক্ষ থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হামিদুল ইসলাম দুলালকে প্রধান করে সহসভাপতি জাহাঙ্গীর সিকদার এবং উপজেলা যুবদলের সভাপতি আরমান হোসেন হাবিবকে সদস্য করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩ কার্য দিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে জুয়েল রানা বলেন, ‘আমাকে ফাঁসানোর জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ওই শিশুকে শারীরিক পরীক্ষা করলেই তার প্রমাণ পাওয়া যাবে।’
জানা গেছে, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে শনিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলা সদরে ডেকে নিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটিকে বলাৎকার করেন। পরে ওই শিশু বাড়িতে ফিরে গিয়ে স্বজনদের জানানোর পর বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নির্যাতনের শিকার ওই শিশু স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থী।
চৌহালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, ‘শিশু বলাৎকারের বিষয়টি আমরা লোকমুখে শুনেছি। তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।