৩২ কোটি টাকার রাস্তায় খড়ের গাদা, বাঁধা হচ্ছে গরু-ছাগল

সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদমোড় থেকে এনায়েতপুর পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কের সাবলেনের বেহালদশা। ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটি এখন ব্যবহৃত হচ্ছে শুধু খড়ের গাদা আর গবাদিপশু বাঁধার কাজে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নজরদারির অভাবে কাজে লাগছে না সড়কটি। আর সড়ক বিভাগ বলছে, সাবলেন নয় পুরো সড়ক প্রশস্তকরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। 

সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা বেলকুচি ও এনায়েতপুর। বাণিজ্যিক দিক থেকে এই এলাকা গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহনের সুবিধা, জেলা সদরের সাথে যোগযোগব্যবস্থা দ্রুত করা এবং দুর্ঘটনা কমানোর জন্য যমুনা সেতুর পশ্চিশ সংযোগ মহাসড়কের পাশে সয়দাবাদ থেকে এনায়েতপুর পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কের পাশে ধীরগতির যান চলাচলের জন্য ২০১৪ সালে ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯.৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও সাবলেন তৈরি করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তবে নিম্নমানের নির্মাণকাজের জন্য ওই সড়ক এখন খড়ের পালা এবং গরু বেঁধে রাখার স্থানে পরিণত হয়েছে। 

রাস্তার ঘাসগুলো এতই বড় হয়েছে যে, রাস্তার পিচ ঢালাই কার্পেটিং রাস্তা কোথাও কোথাও দেখাই যায় না। রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায়, বৃষ্টির পানি গড়ে রাস্তার মাঝে মাঝেই গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থান ভেঙে গেছে। আবার কোথাও রাস্তার ওপর থেকে পিচ উঠে গেছে। ফলে মূল রাস্তায় ছোট গাড়ি চলছে ধীরগতিতে। আর এ কারণে মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের দাবি দ্রুত সাবলেনটি সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করে তোলার। 

মূল রাস্তার পাশের এই সাবলেনটিতে কোনো যানবাহন চলে না। ছবি: দিলীপ গৌর

সয়দাবাদ গ্রামের তাঁত শ্রমিক ইব্রাহীম জানান, রিকশা, ভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা চলাচলের জন্য এই রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্ত এই রাস্তা সকল যান চলাচলের অনুপযোগী। নির্মাণের ৬ মাস না যেতেই ভেঙে পড়ে সড়কের বিভিন্ন অংশ। 

গাছাবাড়ি গ্রামের বৃদ্ধ রমজান আলী জানান, এই রাস্তা তৈরি করার যে উদ্দেশ্য সেটা না হলেও এলাকার মানুষের গবর শুকানো, খড়ের পালা দেওয়া, গরু-ছাগল বাঁধার কাজে আসে! রোড অফিসের লোকজন এই সড়কের কোনো নজরদারি করে না। 

সয়দাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, এই সড়কে মাঝে মাঝেই সিএনজির দুর্ঘটনা হয়। প্রাণহানি ঘটে। সাবলেনটা যদি ঠিক থাকত তাহলে এই লেন দিয়ে সিএনজি চললে এত দুর্ঘটনা ঘটত না। সড়কে যানজটও হতো না। 

সিএনজিচালক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সাবলেন ঠিক থাকলে আমরা সেখান দিয়েই গাড়ি চালাতাম। ওই সড়ক তো বিভিন্ন জায়গায় ভাঙা। খড়ের গাদা দিয়ে বোঝাই আবার কোথাও কোথাও তো দোকানদাররা রাস্তা ভেঙে দোকান করেছে। সরকারের টাকা অপচয় হয়েছে কাজের কাজ কিছুই হয় না। আমরা চাই রাস্তাটি দ্রুত ঠিক করে দিক। ধীরগতির যান এই রাস্তা দিয়ে যাবে বাস-ট্রাক উপর দিয়ে যাবে।’

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, ‘ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত দুই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেই সড়কের আলোকে অঞ্চলিক এই সড়কটি এনাতেয়পুর, কেজুরি, বাঘাবাড়ি হয়ে বেড়া পাবনা পর্যন্ত মহাসড়ক করার জন্য ডিপিপি করে ১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলেই ওই সড়কের সমস্যা সমাধান হবে।’

ইমরান ফারহান সুমেল আরও বলেন, ‘সড়ক নির্মাণে কোনো ত্রুটি হয়েছে কিনা এটি যারা বিশেষজ্ঞ তারা বলতে পারবেন। এনায়েতপুর, বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলার প্রায় ১৩ লাখ মানুষের জন্য ১৯.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’