রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারিত না থাকায় উদ্বেগ জানিয়েছেন বেশ কিছু প্রার্থী। ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, উপহার, খাওয়াসহ নানাভাবে অর্থ ব্যয় করে নির্বাচনে সুবিধা নিতে চাইছে ছাত্র শিবির সমর্থিত প্যানেল।
তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন, দাবি শিবিরের। বিশ্লেষকরা বলছেন, সব নির্বাচনেই প্রার্থীদের ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা উচিত।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে জমজমাট প্রচারণা। একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল ও আড্ডাস্থলে মূল আলোচনা রাকসু নির্বাচন।
প্রার্থীরা বলছেন, রাকসুর আচরণ বিধিতে ব্যায়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। এ কারণে প্রচারণায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে উদ্বেগ বেশ কিছু প্যানেলের প্রার্থীর।
রাকসু নির্বাচনের এক নারী প্রার্থী বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনের প্রচার–প্রচারণার খরচ বা বাজেটের যে বিষয়টা কেমন যেন একটা অসম প্রতিযোগিতার মধ্যে আমরা পড়ে গেছি।’
ছাত্র শিবির সমর্থিত প্যানেলের বিরুদ্ধে বাড়তি ব্যয়ের অভিযোগ ছাত্রদল নেতাদের। বলছেন, উপহার, খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে ছাত্রশিবির। তবে এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলছেন শিবিরের নেতারা।
ছাত্রদলের প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শেখ নুরু উদ্দীন আবীর বলেন, ‘ছাত্রশিবির আচরণবিধির ন্যূনতম তোয়াক্কা করছে না। তারা হলে হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতর বিলি, পানির ট্যাংক বসানো, ফিল্টার বসানো, খিচুড়ি পার্টি, মুড়ি পার্টিসহ শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের উপঢৌকন দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।’
এ অভিযোগ অস্বীকার করে শিবিরের প্যানেলের জিএস প্রার্থী ফাহিম রেজা বলেন, ‘এগুলো সাংগঠনিক কার্যক্রমেরই অংশ। বর্তমানে সাংগঠনিকভাবে দাওয়াতি কার্যকম চলছে। এগুলোরই অংশ হিসেবে তারা আয়োজন করছে। তো নির্বাচনে কেন্দ্র করে ছাত্র শিবিরের এই আয়োজন– এটি আসলে সত্য নয়।’
রাকসু নির্বাচনের আচরণবিধিতে প্রার্থীদের ব্যায়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ না থাকাকে কমিশনের ব্যর্থতা বলছেন বিশ্লেষকরা। তবে এক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেছে নির্বাচন কমিশন।
এ বিষয়ে রাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে যেভাবে হয়, ব্যয়ের খাতগুলো নির্বাচন শেষ হওয়ার পরে প্রার্থী সেটা দাখিল করবে। রাকসু যারা নির্বাচন পরিচালনা করছেন, এটা উনাদের দায়–দায়িত্ব। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাই মনে করি।’
রাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এটা তো জাতীয় নির্বাচন নয়। ছাত্ররা তাদের বাবারা যে পয়সা দেয় তা থেকে খরচ করেই তো ইলেকশন করছে। এখানে বেশি করছ করার তো সুযোগ নেই।’
আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে রাকসুর প্রচারণা। আর ভোটগ্রহণ ২৫ সেপ্টেম্বর।