বগুড়ায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী কোচিংমুখী, শ্রেণিকক্ষে হচ্ছে না প্রয়োজনীয় শিক্ষাদান

বগুড়ার স্কুল-কলেজের প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী কোচিং সেন্টারমুখী। কোচিংয়ে না গেলে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরাই পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেন এমন অভিযোগ ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর। কোচিং সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ফ্রিল্যান্সার কোচিং সেন্টার অ্যাসোসিয়েশনের এক জরিপে শিক্ষার এই উদ্‌বেগজনক চিত্র উঠে আসে। ধর্মীয় শিক্ষা, হাতের লেখার চর্চা, চারুকলার মতো বিষয়গুলোতেও শিক্ষার্থীরা বাধ্যতামূলকভাবে কোচিং করছেন বলেও তথ্য মিলেছে জরিপে।   

অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে বলা হচ্ছে, তাদের নিজ সংগঠনের ৭০ সদস্য আর সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরাও বগুড়ায় প্রাইভেট টিউশন সেন্টার চালাচ্ছেন হাজারখানেক। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনমতো শিক্ষা পাচ্ছেন না বলে কোচিং সেন্টারে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রয়োজন নেই এমন বিষয়েও প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের।

বগুড়া কোচিং সেন্টার অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান জুয়েল বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা অধিকাংশই চিন্তা করে যে তাদের স্কুলে পাস করতে হবে, ভালো রেজাল্ট করতে হবে। যে কারণে বিভিন্ন শিক্ষকদের কাছে পড়ছে। ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্ব স্ব স্কুল শিক্ষক বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকদের কাছে প্রায় শতকরা ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীরা পড়ছে।’

এ অবস্থার পরিবর্তনে শ্রেণিতেই উপযুক্ত পাঠদান নিশ্চিত করার গুরুত্ব দিচ্ছেন সংগঠনটি।

কোচিং সেন্টার অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া বলেন, ‘অভিভাবক শিক্ষক সবাইকে সচেতন হতে হবে। এই বিষয়গুলো যদি শ্রেণিকক্ষে সুন্দরভাবে পড়ানো হয়, তাহলে এগুলোর জন্য বাচ্চাদের বাহিরে আসার প্রয়োজন নেই।’

কোচিং এর জন্য শ্রেণি ও সেন্টার ভেদে অভিভাবকদের ব্যয় বেড়ে গেছে শিক্ষার্থী পিছু মাসে ২ হাজার টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এক অভিভাবক বলেন, ‘ধর্ম, বাংলা এগুলোর জন্য দেখা যাচ্ছে যে আমাদের প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বাড়তি খরচ করতে হয়।’

শহরের জলেম্বরীতলা, কামারগাড়ি, উপ-শহর আর কালিতলা আর কলেজ বটতলা এলাকায় কোচিং সেন্টারের অস্তিত্ব বেশি। 

বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ বলেন, ‘আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি, প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে আমরা জানিয়েছি, সরকারি যে ছুটির দিন বিশেষ করে শুক্রবার কোনো কোচিং হবে না। সেসব দিনে বাচ্চারা বিনোদন করবে, ঘুরে বেড়াবে, খেলাধুলা করবে।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ক্লাস চলাকালীন কোনো কোচিং চলবে না। এগুলোর সাথে যদি সরকারি বা বেসরকারি কোনো শিক্ষক জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

বেশিরভাগ কোচিং সেন্টারে সকাল ৭টা শুরু হয়ে ধাপে ধাপে ক্লাস চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।