পাবনায় জামায়াত কর্মীদের মারধরের অভিযোগ

পাবনা-২ সংসদীয় আসনের পাবনার সুজানগরে জামায়াতের মহিলা কর্মীসহ নেতাকর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুইজন নারী কর্মীসহ মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া সুজানগর পৌর এলাকার চর সুজানগর এবং আহমদপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর এলাকাতেও জামায়াতের নেতাকর্মীদের প্রচারণায় বাধা ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের রায়পুর মাঝপাড়া এবং আহমদপুরের সৈয়দপুর এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন—উপজেলা জামায়াতের ওলামা বিভাগের সভাপতি হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি হাফেজ আমিনুল ইসলাম শিমুল, ওলামা বিভাগের পৌর সভাপতি মাওলানা ইনামুল হক, জামায়াতের মহিলা কর্মী মার্জিয়া খাতুন ও ফিরোজা বেগম।

আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা রফিকুল ইসলামের বাড়িতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভোটের প্রচারণা চালাতে গেলে হুমায়ূন, সুমন, সেলিম, বন্দের মোল্লাসহ স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী প্রথমে মহিলা কর্মীদের বাধা দেন। একপর্যায়ে তাদের মারধর করা হলে পাশে থাকা পুরুষ কর্মীরা এগিয়ে যান। তখন তাদের ওপরও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে পাঁচজন আহত হন।

এছাড়াও সুজানগর পৌর এলাকার চর সুজানগরে জামায়াতের মহিলা কর্মীদের প্রচারণায় বাধা ও মারধর করা হয়। আর আহমদপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর এলাকায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। মিছিলটি ভবানিপুর পশ্চিমপাড়া থেকে শুরু হয়ে সুজানগর বাজার প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ভবানিপুর পশ্চিমপাড়ায় এসে শেষ হয়।

এ বিষয়ে পাবনা-২ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘আজ সুজানগরে তিনটি ঘটনার খবর পেয়েছি। ইতোমধ্যে স্বপ্রণোদিত হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে এ বিষয়ে পাবনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সেলিম রেজা হাবিব বলেন, ‘এসব ঘটনা কীভাবে ঘটছে, তা আমি নিজেও বুঝতে পারছি না। ইউএনও (সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা) অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, সেটিই নেবেন।’