নওগাঁয় সম্পত্তির দ্বন্দ্বেই পরিকল্পিতভাবে ৪ জনকে হত্যা, দুজনের স্বীকারোক্তি: পুলিশ

১৭ বিঘা পৈত্রিক জমি নিয়ে বোনদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণেই স্ত্রী-সন্তানসহ খুন হন নওগাঁর হাবিবুর রহমান। পুলিশ বলছে, বছরখানেক ধরে পাঁচ বোনের পরিবারের সঙ্গে ব্যাপক ঝামেলা চলছিল হাবিবুরের। এ ঘটনায় বুধবার পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনজন। এদের মধ্যে দুজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।

পুলিশ সুপার জানান, নওগাঁয় স্ত্রী-সন্তানসহ হত্যার শিকার হাবিবুর রহমানের নামে তাঁর বাবা বেশির ভাগ সম্পত্তি লিখে দিয়েছিলেন। এ কারণে পাঁচ বোনের পরিবারে দেখা দেয় ক্ষোভ। বছর খানেক ধরে হাবিবুরের সঙ্গে বোনেদের ঝামেলা চলছিল। এরই জেরে সোমবার রাতে চারজনকে হত্যা করা হয়।

প্রেস বিফিংয়ে পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান। ওই রাতে প্রথমে হাবিবকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে খুন করা হয় তাঁর স্ত্রী পপি এবং দুই সন্তান পারভেজ ও সাদিয়াকে। তিনি বলেন, ‘এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল। নমির উদ্দিনের এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ের সন্তান ও তাঁদের জামাইদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা, জমি নিয়ে বিরোধ এবং তাঁদের মধ্যে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার যে ক্ষোভ ছিল এসব থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।

এ হত্যা মামলায় বুধবার পর্যন্ত তিন জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। পুলিশ জানায়, এদের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

তারিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে দুজন সবুজ রানা ও শহীদুল মন্ডল আমাদের কাছে পুরো ঘটনা স্বীকার করছেন। এর সঙ্গে আমাদের অনুসন্ধানে মনে হয়েছে, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত আছে। আমরা তদন্তের স্বার্থে তাঁদের নাম বলছি না।’

এদিকে পুরো পরিবারকে হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, বুধবার সকালে আসামি সবুজের বাড়িতে ভাঙচুর এবং আগুন দেয়।