পাবনায় সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩

পাবনায় ছেলের সামনে হোসেন আলী ওরফে হোসেন ঠাকুরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিদের এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

বুধবার ভোরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রামের আকমল খাঁর ছেলে মতিয়ার রহমান, পুষ্পপাড়া গ্রামের মৃত আমিন প্রামানিকের ছেলে শরীফ প্রামানিক এবং জাফরাবাদ গ্রামের সোহরাব মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম।

এর আগে মঙ্গলবার নিহত হোসেন আলীর স্ত্রী আফসানা খাতুন বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে পাবনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বুধবার দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ জানান, ভোরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি অবিস্ফোরিত গুলি এবং একটি গুলির খোসা জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চরমপন্থী সংগঠন পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এবং পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (লাল পতাকা) আঞ্চলিক নেতা ও সদস্যদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই প্রায় এক মাস আগে হোসেন আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি জাফরাবাদ পুরাতনপাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মনিরুল ইসলাম ওরফে তোতা এবং গোপলার ছেলে শাহীন এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন এজাহারভুক্ত আসামি নন।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, মামলায় ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছেন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যায় পাবনা শহরের মাসুম বাজার এলাকায় অবস্থিত জামেয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় ছেলে রোহানকে রেখে আসতে যান হোসেন আলী। মাদ্রাসার ফটকে পৌঁছানোর পর ছেলের সামনেই দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।