একসময় যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল ডাক বিভাগ। প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় কমেছে চিঠির ব্যবহার। আগের মতো নেই আর ডাক পরিবহন। তবে রাজশাহীর ডাক বিভাগের ব্যয় রয়েছে আগের মতোই। উত্তরাঞ্চল সার্কেলের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে আয়ের তুলনায় ১২ গুণের বেশি ব্যয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিদিন হাজার হাজার চিঠি আর মানি অর্ডারে সরগরম থাকত ডাকঘর। সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তারে কমেছে চিঠি পাঠানোর প্রবণতা। যার প্রভাব পড়েছে ডাক বিভাগের আয়ে।
২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজশাহী বিভাগে ১৬৪ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ের বিপরীতে আয় হয়েছিল মাত্র ১৩ কোটি ৬ লাখ। ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ২৭ কোটি ৮ লাখ হলেও ব্যয় গুণতে হয়েছে ৩৪০ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
সেবা গ্রহীতারা বলছে, জবাবদিহিতা ও অবকাঠামোগত অসুবিধা এবং সঠিক সময়ে ডাক না পৌঁছানোসহ বিভিন্ন করাণে মানুষ রাষ্ট্রীয় এই সংস্থা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
তবে আয় কমে ব্যয় বাড়লেও এটিকে লাভ-লোকসানের হিসাবে না দেখে সেবা হিসেবে দেখার কথা বলছেন ডাক বিভাগের কর্মকর্তরা।
উত্তরাঞ্চল সার্কেল অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এটি একটি সেবামূলক খাতে। এখানে লাভ-লোকসানের হিসাব দিয়ে চলে না।’
সেবার পাশাপাশি ডাকবিভাগের আয়মুখী কার্যক্রম বাড়াতে পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। আর তা না হলে ডাক বিভাগের ব্যয়-আয়ের এই ব্যবধান থেকেই যাবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যপক ড. মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘লোকসান কমাতে ডাক বিভাগকে আয়মুখী কার্যক্রম চালাতে হবে।’
গত তিন বছরে উত্তরাঞ্চলে চিঠি সরবারহ করছে ১ কোটি ২৭ লাখেরও বেশি। তবে ২০২৪-২০২৫ অর্থববছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৭ লাখ ৯৩ হাজার ৫৬৯টিতে।