সৌদিতে অগ্নিকাণ্ড: নাটোরের নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে নাটোরের নলডাঙ্গার তিন রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এমন খবরে পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। মরদেহগুলো দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর সহ ক্ষতিপূরণের দাবি স্বজনদের। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের।

নিহতরা হলেন–খাজুরা শ্রীপুরপাড়া এলাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন, দিঘীর পাড় এলাকার জাকের আলীর ছেলে শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা গ্রামের আসলাম আলীর ছেলে রবিউল আওয়াল হৃদয়।

নিহতদের পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসীরা জানান, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ভাগ্য বদলানোর আশায় বাবা, মা ও স্বজনদের ছেড়ে হাজার কিলোমিটার দূরে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা ইউনিয়নের তিন যুবক। অতি সাধারণ কৃষক পরিবারের এই সন্তানেরা গ্রামের মানুষের কাছ থেকে ধার-দেনা করে এবং ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়েই পাড়ি দেন সৌদি আরবে। এখনো তাদের সেসব ঋণ শোধ হয়নি। এরমধ্যে শামীম হোসেন প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস আগে গর্ভবতী স্ত্রীকে দেশে রেখে যান। অন্য দুজনের একজন ৫ বছর আগে একজন তিন বছর আগে সৌদি আরব যান। সেখানে গিয়ে একটি সোফা তৈরির কারখানায় কাজ করছিলেন তারা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে আজ সেই তিন রেমিট্যান্স যোদ্ধা আগুনে দগ্ধ হয়ে নিহত হলেন। এই সংবাদ বাড়িতে পৌঁছালে সবাই স্তব্ধ হয়ে যায়। এখন শুধুই চলছে শোকের মাতম।

খাজুরা ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, অতি সাধারণ কৃষক পরিবারের এসব সন্তানেরা মানুষের নিকট থেকে ধার-দেনা করেই বিদেশ যায়। এখনো তাদের সেসব ঋণ শোধ হয়নি। তাদের ব্যাংক এবং এনজিওতে ঋণ রয়েছে। সরকারের নিকট তিনি এসব ঋণ মওকুফ করার দাবি জানাই।

জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন জানান, মৃতদেহগুলো দেশে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে সহযোগিতা প্রয়োজন তা করা হবে।