রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুর চালিয়েছেন রাবি শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে ঘটনার সাথে জড়িত চার রেলকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রোববার দিবাগত রাত ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে স্টেশনে গিয়ে ভাঙচুর চালান। পরবর্তীতে প্রশাসনের আশ্বাসে রাত দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে যায়।
শিক্ষার্থীরা জানান, রোববার রাত ৯টার দিকে চাচাকে নিতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়েছিলেন রাবি শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী। এ সময় স্টেশনে ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আইয়ুব আলী ওই শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলতে গেলে আনসার সদস্যরা তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম আইয়ুব আলী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পরে আহত অবস্থায় আইয়ুব আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাবি রেলওয়ে স্টেশনের রেলপথে অবস্থান নেন। ঘটনার প্রতিবাদে রেলপথ অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রাবির প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ভিডিওতে তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের দৃশ্য দেখা গেছে। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত ও ব্রেন হেমারেজ হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তিনি বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থী আইন ভাঙলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু বহিরাগতদের দিয়ে মারধর করা গ্রহণযোগ্য নয়।’
এদিকে মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার রেলকর্মীকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রাজশাহীর বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক আদেশে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায়’ জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত চারজন হলেন–মো. আরিফ হোসেন, মো. রোকন উদ্দিন, মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. শাহাদাত হোসেন।
ওই আদেশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিদিন বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে হাজিরা দিতে হবে।