রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের রাবি শাখার সহ-সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ ৩ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে, হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গঠিত হয়েছে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি।
হামলার প্রতিবাদে সোমবার ক্লাস বর্জন করেছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় থমথমে ক্যাম্পাস। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ক্লাস বর্জন কোরে সোমবার সকালে মানববন্ধন করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, অভিযুক্তদের ছাত্রত্ব ও দোষীদের সনদ বাতিলের দাবি জানান তারা। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি ওঠে।
রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হামলা, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
আরেক শিক্ষক বলেন, ‘এটা খুবই লজ্জাজনক যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্যাম্পাসে যারা সাংবাদিকতা করে তাদেরকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি।’
আহত সাংবাদিকদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীবের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন তাদের মারধর করেন। এতে আহত হন অন্তত সাত সাংবাদিক। গুরুতর আহত একজনকে ভর্তি করা হয় রাজশাহী মেডিকেলে ।
আহত সাংবাদিক নূর আসহান মৃদুল বলেন, ‘আমি আমার ক্যাম্পাস জীবনের চার–সাড়ে চার বছরে এমনটা প্রায় দেখিনি বলা চলে। ৫ আগস্টের পরের পরিস্থিতিতে ছাত্রদলের সাথে আমাদের এতটা বাজে সম্পর্কও না যে তারা আমাদেরকে মারতে চলে আসবে।’
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা ও ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আশ্বাস কর্তৃপক্ষের।
রাবি উপ-উপাচার্য ড. মো. আব্দুল আলিম বলেন, ‘আমরা খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে এই ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে চাই। অপরাধী যেই হোক না কেন– তার ব্যাপারে আমরা দরকারি ব্যবস্থা নিতে চাই। তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। আশা করি খুব তাড়াড়াড়ি প্রতিবেদন দেবে। ’
ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ছাত্রদল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার কথা বলছে তারা।