রাজশাহী নগরীতে ক্রমেই বাড়ছে কিশোর অপরাধী চক্রের দাপট। পুলিশের হিসাবে শহরে সক্রিয় আছে অন্তত ৩৫টি কিশোর অপরাধী চক্র। আধিপত্য বিস্তার, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বসহ নানা তুচ্ছ ঘটনায় প্রায়ই সংঘর্ষে জড়াচ্ছে তারা। ঘটছে প্রাণহানিও। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ অপরাধ বিশ্লেষকদের।
দল বেঁধে মহড়া দেয়া। ফিল্মি স্টাইলে প্রতিপত্তির প্রদর্শন। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হামলা। এভাবেই রাজশাহী নগরীতে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে কিশোর অপরাধী চক্রের সদস্যরা।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর নগরীর বাকির মোড়ে টাকা ভাঙানো নিয়ে তুচ্ছ এক ঘটনা কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান এক দোকানি।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ফয়েজুল কবির বলেন, ‘রাজশাহী নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে সক্রিয় আছে অন্তত ৩৫টি কিশোর অপরাধী চক্র। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, টেন স্টার বয়, রাইজিং বয়, অদম্য বালক, গলি বয়, হিটার বয়েজ ও বুলেট গ্যাং। তবে শহরের কিশোর অপরাধ দমনে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. মুন্সী ইসরাইল হোসেন বলেন, ‘শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ।’
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের হিসাবে, রাজশাহী নগরীতে কিশোর অপরাধী চক্রগুলোর সদস্য সংখ্যা পাঁচ শতাধিক।