অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক এক কর্মকর্তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন পাবনার বিশেষ জজ আদালত। একই সঙ্গে আত্মসাৎ করা ৯ লাখ ২৪ হাজার ৮ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে পাবনার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু সালেহ মো. সালাহ্উদ্দিন খাঁ এ রায় ঘোষণা করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মলয় কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ড পাওয়া সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রামীণ ব্যাংকের সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট শাখার সাবেক সিনিয়র কেন্দ্র ব্যবস্থাপক। তিনি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার গুয়াগাঁতী গ্রামের সৈয়দ আব্দুল খালেকের ছেলে।
খালাস পাওয়া দুই আসামি হলেন একই শাখার সাবেক সিনিয়র কেন্দ্র ব্যবস্থাপক সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও শাখা ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন। রায় ঘোষণার সময় আল মামুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের আগস্ট থেকে ২০১৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ভদ্রঘাট শাখায় দায়িত্ব পালনকালে তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও ভুয়া ঋণ বিতরণের তথ্য দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা কালেকশন শিটে অন্তর্ভুক্ত না করে ব্যাংকে জমা না দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
এ ঘটনায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পাবনার তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি কামারখন্দ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩১ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তিনি।
দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন। মামলায় আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন দুদকের বিশেষ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মলয় কুমার দাস।