মাদারীপুর শহরে একটি ভবনে থাই গ্লাসের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎতায়িত হয়ে সাইম মোল্লা নামে এক কিশোর শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে শহরের ভুঁইয়া বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা হয়। ৩ লাখ টাকায় আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নিহত সাইম মোল্লা মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার বানিয়াবহু গ্রামের সামছু মোল্লার ছেলে। সে পরিবারের সঙ্গে মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ বাঁশতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত। পাশাপাশি স্থানীয় একটি দোকানে কাজ করত সে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুঁইয়া বাড়ি এলাকায় একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা শামীম রাজিন নামের এক প্রকৌশলীর কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। ওই তলার জানালাগুলো আগে থেকেই অসম্পূর্ণ ছিল। ভাড়াটে শামীম রাজিন জানালা লাগানোর বিষয়ে বাড়ির মালিক সাইফুল ফকিরকে জানালে তিনি অফিস ভাড়ার অগ্রিম জামানত বাবদ দেওয়া ২ লাখ টাকা থেকে খরচ করে কাজ করিয়ে নিতে এবং পরে হিসাব বুঝিয়ে দিতে বলেন। এরপর শামীম রাজিন নিজেই শ্রমিক ঠিক করে কাজ শুরু করান।
গতকাল সকালে জানালা লাগানোর জন্য দেয়ালের অপর পাশে যাওয়ার চেষ্টা করলে সাইম সেখানে থাকা একটি বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসে। এতে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় তারা বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলেও তারা জানান।
নিহতের মা প্রথমে ছেলের মৃত্যুর বিচার দাবি করলেও পরে আর এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি কি আর আমার ছেলেকে ফেরত পাব?’
ভাড়াটে প্রকৌশলী শামীম রাজিন বলেন, বাড়ির মালিক দূরে থাকেন। তিনিই শ্রমিক ঠিক করে কাজ করাতে এবং ভাউচার দিতে বলেছিলেন। তবে দুর্ঘটনার দায় নিজের ওপর না নিয়ে বাড়ির মালিকের ওপর দায় চাপান তিনি।
ঘটনার পর থেকে বাড়ির মালিক সাইফুল ফকিরের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার জন্য স্থানীয়রা বসে একটি মীমাংসা করে দিয়েছেন।’
তবে ৩ লাখ টাকায় মীমাংসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানায় যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক উপপরিদর্শক (এসআই) জানান, ঘটনার পর উভয় পক্ষ বসে আপস-মীমাংসা করেছে। এ ঘটনায় কেউ দায়ী নন—এমন বক্তব্য উল্লেখ করে তারা থানায় লিখিত দিয়েছেন। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন অভিযোগ করেন, বাড়ির মালিকের অবহেলা ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভবন নির্মাণের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, ভবনটি নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভবন নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাদারীপুর পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ আরাফাত জামান বলেন, ভবনটির নির্মাণের অনুমোদন এখনো দেওয়া হয়নি। লিটন ফকিরের নামে ভবনটির অনুমোদনের আবেদন করা হয়েছে। তার ভাই সাইফুল ফকির ভবনটি দেখাশোনা করেন। তিনি আরও বলেন, ‘ওই ভবনটির অনুমোদন এখনো দেওয়া হয়নি। এটি অনুমোদনহীন ভবন।’


