পাবনায় গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার

পাবনার সাঁথিয়ায় রোমেনা খাতুন নামে এক গৃহবধূকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ধুলাউড়ি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আব্দুর রহিম ওই গ্রামের রইজ মোল্লার ছেলে। আর রোমেনা একই ইউনিয়নের কাশিনাথপুর গ্রামের মরহুম আলীর মেয়ে।

মঙ্গলবার নিজ বাড়ি থেকে আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে আব্দুর রহিম সৌদি আরবে যান। সেখানে ছয় বছর থাকার পর তিনি মালয়েশিয়ায় যান। প্রায় দুই মাস আগে ছুটিতে দেশে ফেরেন। সোমবার স্ত্রী রোমেনা খাতুনের বাবার বাড়িতে টাকা পাঠানো নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আব্দুর রহিম তার স্ত্রীকে গলা টিপে ধরেন। এতে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুর রহিম হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দাবি, প্রবাসে থাকাকালে উপার্জিত অর্থের বেশির ভাগই স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে পাঠাতেন। সর্বশেষ তাকে না জানিয়ে সঞ্চিত ১৩ হাজার টাকা পাঠানো নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীর গলা চেপে ধরেন। এতে তার মৃত্যু হয়। তবে গলা চেপে ধরলে স্ত্রী মারা যাবেন, তা তিনি বুঝতে পারেননি বলে দাবি করেন।

নিহতের বাবা মরহুম আলী জানান, মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে মেয়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে তাকে জানানো হয় এবং দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। তবে গোসল করানোর সময় মেয়ের শরীরে মারধর ও গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তিনি। এতে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেন।

তিনি আরও জানান, তার মেয়ের দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে। মেয়েকে হত্যার বিচার এবং অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি চান তিনি।

সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, ‘গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হলে স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানান ওসি। পরে তাকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’