গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)–সহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগে ৯ জনের নামের মামলা হয়েছে। এ মামলায় পলাশবাড়ী উপজেলা যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশের নাম রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশকে মারধর করা হয়।
এ ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা তৌহিদুল ইসলাম কানন নামে এক সংবাদকর্মীকে আটকের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। তিনি দৈনিক গণকন্ঠের পলাশবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাশবাড়ী যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে একটি অভিযোগপত্রসহ পলাশবাড়ী থানায় যান এবং ওসির সঙ্গে কথাবার্তার এক পর্যায়ে সেখানে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
পুলিশের দাবি, যুব জামাতের নেতা থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে অমীমাংসিত একটি খোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু ওসি বিষয়টি করতে পারেন না এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে ওই নেতা ওসিকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এতেও শেষ পর্যন্ত ওসি রাজি না হলে ওই নেতাসহ তার সঙ্গে থাকা যুবকেরা ওসির ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে ওসিকে আক্রমণসহ মারধর করেন। এসময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বাধা দিতে গেলে একাধিক পুলিশকে মারধর করা হয়। পরে আহত পুলিশ সদস্যরা পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
এ ব্যাপারে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘অভিযুক্তদের এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দলীয় কেউ জড়িত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এবিএম রশিদুল বারী বলেন, ‘পুলিশ সদস্যদের ওপর মারপিটের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত এক যুবককে আটক করা হয়েছিল। পরে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
সিসি ফুটেজ প্রকাশের বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার এবিএম রশিদুল বারী বলেন, ‘পর্যালোচনা চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’