ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় নিখোঁজের ১০ দিন পর পরিত্যাক্ত পুকুর থেকে কাস্টমস সদস্য (সিপাহী) রায়হান তালুকদারের ১৫ টুকরো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামের রায়হানের বাড়ির পাশের পরিত্যাক্ত একটি পুকুরে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে এ মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহত রায়হান গত ২৪ জুলাই নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। তিনি কমলাপুর কাস্টমস হাউজে সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সোয়াইতপুর উত্তর পাড়া গ্রামের মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত আবু রায়হান গত ২৩ জুলাই রাতে ছুটিতে নিজ বাড়িতে আসেন। বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণকারী (কেয়ারটেকার) রাজুকে নিয়ে রাতে নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন। পরের দিন ২৪ জুলাই কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে রাজুর সঙ্গে বের হয়ে যান। তিনদিন পর ২৭ জুলাই রায়হানের অফিসের এক সহকর্মী তার চাচাতো বোন কলেজশিক্ষক নাজমুন্নাহার বিউটিকে মোবাইল ফোনে জানান আবু রায়হান অফিসে আসেননি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে।
এরপর থেকে আত্মীয় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি শুরু করে। কোথাও সন্ধান না পেয়ে ২৭ জুলাই রাতে আবু রায়হানের বড় ভাই নূরুল ইসলাম ছোট ভাই নিখোঁজ উল্লেখ করে ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরের দিন জিডির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে তার কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে।
এদিকে, আজ সকাল থেকে রায়হানের বাড়ির ৩০০ (তিনশ) গজ পূর্বে পরিত্যাক্ত একটি পুকুরের এলাকা থেকে পঁচা দুর্গন্ধ বাতাসে ভাসছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিত্যাক্ত পুকুরে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগের সন্ধান পায়। পরে বিষয়টি ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে ১৫ ঘন্ডে খন্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে।
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা করা হচ্ছে র্পূব শত্রুতার জেরে কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। যেহেতু তারা দুজনই পলাতক রয়েছে। ঘাতকরা মরদেহটি পনেরো টুকরা করে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে একটি পরিত্যাক্ত পুকুরে ফেলে রাখে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘাতকদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।



